নগরীর ডিসি রোডের মৌসুমী আবাসিক এলাকায় কলেজ ছাত্র আশফাক কবির সাজিদকে মারধর করে লিফটের গর্তে ফেলে দিয়ে খুনের মামলায় এক আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তার নাম মো. ইলিয়াস। সাজিদকে খুনের আগে যে টং দোকান থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সেটির পরিচালনায় ছিলেন এই ইলিয়াস। পাশাপাশি তিনি মামলার প্রধান আসামি আইমনের পুপাতো ভাই। গত রোববার বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট এলাকা থেকে ইলিয়াসকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। এরপর গতকাল চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হয়। একপর্যায়ে বিচারক তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
জবানবন্দিতে টং দোকানি ইলিয়াস বলেন, আমার দোকানে বসে কথা বলছিল সাজিদ ও তার এক বন্ধু। হঠাৎ সেখানে এক দল লোক এসে ঝামেলা শুরু করেন। দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। মারধরের ঘটনাও ঘটে। আমি দুই পক্ষকে থামানোর চেষ্টা করি। তিনি আরো বলেন, একটু পর দুই পক্ষ–ই আমার দোকান থেকে সরে কিছু দূর গিয়ে আবারও মারামারি করে এবং ৪ জন ছেলে মিলে সাজিদকে একটি অটো রিকশায় উঠায় জানিয়ে বলেন, এরপর কী হয়েছে তা আমি জানি না। জবানবন্দিতে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করা হলেও পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘটনায় ইলিয়াসেরও সম্পৃক্ততা রয়েছে। সাজিদকে যখন মারধর করা হয় সেখানে সেও যুক্ত হয়। তার কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে জানিয়ে পুলিশের ওই সূত্র জানায়, মামলার এজহারনামীয় আসামি ছাড়াও বেশ কয়েকজনের বিষয়ে তথ্য দিয়েছে ইলিয়াস, যারা ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন।
এদিকে ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩ জন আসামিকে ৩ দিন করে রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। পাশাপাশি আরো দু’জনকে জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে ১০ দিন করে রিমান্ড চেয়ে করা আবেদনের প্রেক্ষিতে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এ আদেশ দেন। ৩ দিন করে যাদের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে তারা হলেন– আইমন, এনায়েত উল্লাহ ও এনামুল হক। যাদেরকে জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তারা হলেন– রানা ও মিসকাতুল কায়েস। থানা পুলিশ জানায়, নৃশংস এ হত্যার ঘটনায় গত সোমবার আরো এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার নাম ওমর ফারুক। তবে তার নাম এজাহারে নেই। তদন্তেই তার নাম উঠে এসেছে। এ নিয়ে সাজিদ হত্যা মামলায় মোট ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত ১২ এপ্রিল নগরীর ডিসি রোডের মৌসুমী আবাসিক এলাকার নির্মাণাধীন আমিন এন্ড হাসান ম্যানসনে কলেজছাত্র আশফাক কবির সাজিদ খুনের ঘটনা ঘটে। ভবনটির ৮ তলায় ব্যাপক মারধর করা হয় তাকে। একপর্যায়ে সেখানে থাকা লিফটের জন্য নির্ধারিত গর্তে তাকে ফেলে দেওয়া হয়। চকরিয়ার বদরখালির বাসিন্দা সাজিদ নগরীর বিএফ শাহীন কলেজের ১ম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তাকে খুনের ঘটনায় তার বাবা আবুল হাসেম সিকদার বাদী হয়ে আইমন, মিসকাতুল কায়েস, এনায়েতুল্লাহ, এনামুল হক, রানা ও ইলিয়াসসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার অপর আসামি হলেন– অনিক।











