গাজার মুক্তিকামী গোষ্ঠী হামাস তাদের এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পরিচালিত প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ (ডি ফ্যাক্টো সরকার) ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সোমবার হামাস জানিয়েছে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তারা গাজায় পেশাজীবী ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত নতুন একটি টেকনোক্র্যাট বেসামরিক কর্তৃপক্ষের কাছে শাসনভার হস্তান্তর করতে প্রস্তুত। গত বছর অক্টোবরে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর যুদ্ধপরবর্তী গাজার শাসনভার নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনার পথে হেঁটেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে গোষ্ঠীটি। খবর বিডিনিউজের।
তবে হামাসের এই পদক্ষেপকে লোক দেখানো নাটক (স্টান্ট) বলে কটাক্ষ করেছে ইসরায়েল। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সার এক্সে হামাসের ঘোষণা প্রত্যাখ্যা করে বলেছেন, গোষ্ঠীটি নিজেদের নিরস্ত্রীকরণ এড়াতে টেকনোক্র্যাটিক সরকার গঠনের জন্য পথ সুগম করছে। তিনি বলেন, যতদিন হামাস তাদের অস্ত্র সমর্পণ না করবে, ততদিন যে কোনও বেসামরিক সরকার অবশ্যই হামাসের নির্দেশনা অনুযায়ীই কাজ করবে। ইসরায়েল ট্রাম্পের পরিকল্পনার পুরোপুরি বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়ে হামাসের অস্ত্র সমর্পণের দাবি জানান।
ওদিকে, হামাস গাজায় ইসরায়েলের হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত অস্ত্র সমর্পণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। যুদ্ধবিরতি চলার মধ্যেও ইসরায়েলের হামলায় সবশেষ সোমবার গাজায় ৫ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সেখানকার চিকিৎসাকর্মীর। তবে ইসরায়েলের ভাষ্য, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে জঙ্গি হামলার হুমকি মোকাবেলা করতেই তারা এমন হামলা চালিয়ে আসছে। এর মধ্যেই সোমবার হামাসের গাজার শাসনভার ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন হিসেবেই মনে করছে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।
ওইদিন গাজার দেইর আল বালায় আল আকসা হাসপাতাল প্রাঙ্গনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময় হামাসের সরকারি মিডিয়া অফিসের প্রধান ইসমাইল আল–তাওয়াবতা বলেন, হামাসের প্রশাসনিক প্রধান মোহাম্মদ আল–ফাররা সোমবার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং হামাস ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজার কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু করতে প্রস্তুত।











