গরমের তীব্রতা থাকতে পারে জুন জুড়ে

কম বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস

মোরশেদ তালুকদার | বৃহস্পতিবার , ৪ জুন, ২০২৬ at ৫:৩৯ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রামে গত মাসে (মে) স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবার মাসটিতে প্রায় দিন রেকর্ডকৃত তাপমাত্রা ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। ফলে মে মাসে গরমের অনুভূতিও ছিল বেশি। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি জুন মাসেও বাড়তে পারে গরম। কারণ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসএর তথ্য অনুযায়ী জুন মাসেও দেশে কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। একইসঙ্গে এ মাসে গড় সূর্যকিরণ থাকতে পারে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা। এদিকে গতকাল বুধবার নগরের আমবাগান পর্যবেক্ষণাগারে রেকর্ডকৃত তাপমাত্রা ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। এর আগে এ মাসের প্রথম দুইদিনও নগরে স্বাভাবিকের বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। যা জানান দিচ্ছে, জুন মাসও গরমের তীব্রতা থাকবে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামে তাপমাত্রা বৃদ্ধির বিষয়টি ২০২১ সালে অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে কানাডার ক্যালগভরি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশের গবেষকদের সম্পৃক্ততায় পরিচালিত এক গবেষণা প্রতিবেদনেও উঠে আসে। ভূউপগ্রহ থেকে দিনের ও রাতের তাপমাত্রার ধরন বিশ্লেষণ করে পরিচালিত ওই গবেষণায় দেখা যায়, ২০০০ সাল থেকে পরবর্তী ২০ বছরে চট্টগ্রামের তাপমাত্রা ১ দশমিক ৯২ ডিগ্রি বেড়েছে। গবেষণাটির তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের রাতের তাপমাত্রা রাতের ঢাকার তাপমাত্রার চেয়েও বেড়েছে। এর কারণ হিসেবে বলা হয়, বঙ্গোপসাগর থেকে রাতের বেলায় যে বায়ু চট্টগ্রাম শহরের উপর দিয়ে বয়ে যায় সেটি ক্রমশ উষ্ণ হচ্ছে। তাছাড়া এখানে দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমি বায়ু দুর্বল হয়ে যাওয়ায় এবং পাহাড় কাটায় আগের মতো বৃষ্টিপাত না হওয়াকেও তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণ বলা হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ১ জুন নগরে স্বাভাবিকের চেয়ে ১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও ২ জুন স্বাভাবিকের চেয়ে ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বেশি রেকর্ড হয়েছে। এছাড়া গতকাল নগরের আমাবাগান পর্যবেক্ষণাগারে সর্বোচ্চ ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং পতেঙ্গায় ২৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। অথচ এ মাসে স্বাভাবিকভাবে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকার কথা ৩১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়ার পূর্বাভাস প্রদানের জন্য গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটির চেয়ারম্যান মো. মমিনুল ইসলাম জানান, চলতি জুন মাসে দেশে দুই থেকে তিনটি বিচ্ছিন্নভাবে মৃদু (৩৬৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস) থেকে মাঝারি (৩৮৩৯ দশমিক ৯০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ধরনের তাপ প্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এ মাসে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিক অপেক্ষা বেশি থাকতে পারে। এমনকি মাসটিতে দেশে স্বাভাবিক অপেক্ষা কম বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত মাসে চট্টগ্রামে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা ছিল ৩৪১ মিলিমিটার। কিন্তু রেকর্ড হয়েছে মাত্র ২৬৯ মিলিমিটার। অবশ্য গত মাসে খুলনা ও বরিশাল বিভাগেও কম বৃষ্টিপাত হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি মাসে দেশের দৈনিক গড় বাষ্পীভবন ৩ দশমিক ৫ থেকে ৫ দশমিক ৫ মিলিমিটার ও গড় সূর্যকিরণ ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা থাকতে পারে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, গড় সূর্যকিরণ ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা থাকার অর্থ হচ্ছে দিনের বেশিরভাগ সময় মেঘবিহীন রোদ পড়তে পারে। সরাসরি রোদ পড়ার কারণে তাপমাত্রা বাড়তে পারে। আবার বাষ্পীভবনের কারণেও বাড়তে পারে গরম। এক্ষেত্রে বাতাসে জলীয় বাষ্পের উপস্থিতি বেশি হলে ভ্যাপসা গরমের সঙ্গে অস্বস্তি লাগবে।

এদিকে নগরবাসী বলছেন, গরমে কাহিল তারা। ভোরে সূর্য উঠার পর থেকে সময় যতই যায় রোদের তেজ এবং গরম দুটোই যেন পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে। গতকাল নগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শ্রমজীবী ও অন্যান্য প্রয়োজনে রাস্তায় বের হওয়ায় লোকজন গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। জ্যৈষ্ঠের দুপুরে কড়া রোদ থেকে বাঁচতে ছায়া খুঁজছিলেন তারা। শহীদ নামে এক রিকশাচালক বলেন, আজ মনে হয় গরম একটু বেশি পড়ছে। রিকশা চালাতে অনেক কষ্ট হচ্ছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধমিটার রিডার সংকটে কমছে না সিস্টেম লস
পরবর্তী নিবন্ধশেষ মুহূর্তের গোলে ফাইনালে বাংলাদেশ