চট্টগ্রাম কাস্টমস থেকে নিলাম পণ্যের হিস্যা চায় চট্টগ্রাম বন্দর। বছরের পর বছর ধরে বন্দরের জায়গা দখল করে পড়ে থাকা পণ্যগুলো নিলাম হলেও পুরো টাকা জমা হয় কাস্টমসে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এই টাকার একটি হিস্যা দাবি করে আসছে অনেকদিন ধরে। বিষয়টি নিয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ অর্ধ শতাধিক পত্র দিলেও কাস্টমস কোন সাড়া দেয়নি। অবশেষে বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকেও আলোচিত হয়েছে। বৈঠকে পণ্য নিলামের হিস্যার বিষয়টি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে তোলারও সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, বিশ্বের নানাদেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্য চট্টগ্রাম বন্দরে খালাস হয়ে থাকে। এসব পণ্য ৩০ দিনের মধ্যে আমদানিকারক ডেলিভারি না নিলে নিলামের জন্য কাস্টমসকে চিঠি দেয়া হয়। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ যাচাই–বাছাই করে নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। অনেক সময় মামলা ও নিলাম প্রক্রিয়া যথাযথ সময়ে করতে না পারলে কিছু পণ্য ধ্বংসও করা হয়। তবে অপচনশীল বেশিরভাগ পণ্য নিলামে বিক্রি হয়। পচনশীল পণ্যগুলোর মধ্যেও যেগুলোর গুণগত মান ভালো থাকে, যেমন খেজুর, কমলা, আঙুর, আপেল ও মালটা এগুলো প্রায়ই নিলামে বিক্রি হয়ে থাকে।
অন্যদিকে গাড়ি ও বিভিন্ন লৌহজাতসামগ্রী নিলামে বিক্রি হয়। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ নিয়মিত পণ্য নিলাম করে থাকে। আবার নানা ধরনের জটিলতায় বহু পণ্য বন্দর থেকে খালাস করা হয় না। এসব পণ্য বছরের পর বছর বন্দরের ইয়ার্ড দখল করে পড়ে থাকে।
সূত্র বলেছে, চট্টগ্রাম কাস্টমস নিলামে যেসব পণ্য বিক্রি করে সেগুলো নিলাম গ্রহিতা চালানগুলো অর্থ পরিশোধ করে খালাস করে নিয়ে যান। বন্দর এসব পণ্য থেকে কোন অর্থ আদায় করতে পারে না। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম বন্দরে নিলামে বিক্রি হওয়া পণ্যগুলো মধ্যে এফসিএল (পুরো কন্টেনার একজন আমদানিকারকের) কন্টেনার থেকে নিলামে বিক্রয়লব্ধ অর্থের ২০ শতাংশ এবং এলসিএল (একাধিক আমদানিকারকের পণ্যবোঝাই) কন্টেনার পণ্যের বিক্রয়লব্ধ অর্থের ১৫ শতাংশ অর্থ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে প্রদানের সিদ্ধান্ত রয়েছে। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে কাস্টমস পণ্য নিলাম করে সরকারি কোষাগারে অর্থ জমা করলেও বন্দরের হিস্যা প্রদান করা হচ্ছে না। গত ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত নিলামে বিক্রিত পণ্যের বিক্রয়লব্ধ অর্থ থেকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের হিস্যা বাবদ ১৬৬ কোটি ৭৪ লাখ ৩২ হাজার ৮৭৮ টাকা পাওনা হয়েছে। কিন্তু দফায় দফায় পত্র দিলেও এই ব্যাপারে কাস্টমসের পক্ষ থেকে কোন সাড়া দেয়া হচ্ছে না বলে মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের সভায় উল্লেখ করা হয়। বন্দরের পক্ষ থেকে বলা হয় যে, ২০১১ সালের ১ নভেম্বর থেকে গত জানুয়ারি পর্যন্ত ৬০টির বেশি চিঠি দেয়া হয়েছে। কিন্তু এসব চিঠির ব্যাপারে কোন সাড়া দেয়নি কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
বছরের পর বছর বন্দর কর্তৃপক্ষের পাওনা না দেয়া প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম কাস্টমসের রিফান্ড শাখার একজন কর্মকর্তা গতকাল দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘নিলামে যেসব পণ্য বিক্রি হয় সেগুলোর অর্থ সরাসরি সরকারি কোষাগারে জমা হয়ে যায়। চালানের মাধ্যমে জমা হওয়া এই অর্থ বের করে বন্দর কর্তৃপক্ষের পাওনা পরিশোধ একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। এতে সরকারের সম্মতিসহ অনুমোদন লাগে। তাই বিষয়টি সময়সাপেক্ষ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বিষয়টি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মকর্তারা জানান, নিলামে বিক্রিত পণ্যের উপর আমাদের হিস্যাটা আইনগতভাবে স্বীকৃত। এটি আমাদের পাওনা। তারা পণ্য নিলামে বিক্রির সময় দুটি পে–অর্ডারের (একটি কাস্টমস ও অন্যটি বন্দর কর্তৃপক্ষ) মাধ্যমে পরিশোধ করলে এমন জটিলতা তৈরি হতো না।
এই ব্যাপারে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় বন্দরের পাওনা প্রায় ১৬৭ কোটি টাকা আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের মাধ্যমে আলোচনা করে আদায় করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।














