কাস্টমসের দীর্ঘসূত্রতায় বাড়ছে ব্যবসা ব্যয়

এনবিআরকে চেম্বার সভাপতির চিঠি

আজাদী প্রতিবেদন | সোমবার , ১৩ জুলাই, ২০২৬ at ৬:০৪ পূর্বাহ্ণ

শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সহজীকরণের মাধ্যমে দ্রুত পণ্য খালাস নিশ্চিত ও ব্যবসার পরিচালন ব্যয় হ্রাস করতে কার্যকর ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিবের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক।

গতকাল লেখা এক চিঠিতে চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক উল্লেখ করেন, সম্প্রতি অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রামের বাসায় বিভিন্ন ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, কাস্টমস ও বন্দর প্রতিনিধিদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় ব্যবসা পরিচালন সহজীকরণ ও ব্যয় হ্রাসকল্পে চারদিনের মধ্যে পণ্য শুল্কায়ন সম্পন্ন ও বন্দর থেকে খালাসের নির্দেশনা প্রদান করেছিলেন। পাশাপাশি বন্দরের কার্যক্রমে গতিশীলতা আনা এবং জাহাজ ও পণ্যজট হ্রাসের লক্ষ্যে বন্দরের অচল স্ক্যানার মেশিনগুলো সচল করাসহ আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা দেন। যা দ্রুত পণ্য খালাসের সাথে সাথে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের খরচ কমাতে সহায়ক হবে। কিন্তু অর্থমন্ত্রীর নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও এখনো ক্ষেত্র বিশেষে কাস্টমস কর্মকর্তাদের অসহযোগিতা, স্বদিচ্ছার অভাব, প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা ও অকারণ দীর্ঘসূত্রিতার কারণে দ্রুত সময়ের মধ্যে শুল্কায়নের মাধ্যমে পণ্য খালাস প্রক্রিয়া কাক্সিক্ষত গতিশীলতা পাচ্ছে না। ফলে দেশীয় ব্যবসায়ীদের কাঁধে কাস্টমস ও বন্দরের বিশাল জরিমানার বোঝা নিপতিত হয়ে ব্যবসা পরিচালন ব্যয় অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশীয় পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক ধার হ্রাস পাচ্ছে।

চিঠিতে চেম্বার সভাপতি আরো উল্লেখ করেন, এখনো বিভিন্ন সংস্থা কর্তৃক একই পণ্যের বারবার পরীক্ষা করা, কন্টেনার স্ক্যানিং করার পরেও গোপন সংবাদের দোহাই দিয়ে পুনরায় কায়িক পরীক্ষা, স্থানীয় রাসায়নিক পরীক্ষার সুযোগের সীমাবদ্ধতার অজুহাতে ল্যাব টেস্টের নামে ঢাকায় প্রেরণ, বর্তমানে আন্তর্জাতিকভাবে চলমান ও স্বীকৃত ইসিও দেয়া সত্ত্বেও সিও সিগনেটরির সিগনেচার যাচাই করার নামে দিনের পর দিন পণ্য শুল্কায়নে বিলম্ব করা, কন্টেনার আনস্টাফিংয়ের সময় অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেকিং বাধ্যতামূলক নয় এমন অনেক পণ্য বিএসটিআই টেস্টের জন্য প্রেরণসহ আরো অনেক অকারণ জটিলতা সৃষ্টি করার ফলে ক্ষেত্র বিশেষে ৭৮ দিন বা আরো বেশি সময় লাগছে। অধিকতর উদ্বেগের বিষয় হলো, একই পণ্যের বিভিন্ন সংস্থা কর্তৃক বারবার কায়িক পরীক্ষার ফলে যেকোন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মাঝেও পণ্য আনস্টাফিং করা হয় বলে পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কিছু ক্ষেত্রে এ সকল পণ্য বাজারে চালানোর মত অবস্থায় থাকে না। এতে করে আমদানিকারকরা প্রচুর আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। আমদানিকৃত পণ্যের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য নির্ধারণে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিদ্যমান বিধি অনুসরণ না করে লোডিং দিয়ে শুল্কায়ন করা হচ্ছে। এতে করে প্রকৃতপক্ষে পণ্য খালাস ব্যবস্থাকে আরো জটিল ও সময়সাপেক্ষ করে তোলা হচ্ছে, যা ব্যবসা সহজীকরণের পথে অনেক বড় বাধা। অধিকন্তু, খালাস কার্যক্রম বিলম্বিত হওয়ায় অতিরিক্ত সময়ের মাশুল প্রদান, বিভিন্ন টেস্ট ও ডকুমেন্টের জন্য অতিরিক্ত খরচ পণ্যের মূল্যের সাথে যুক্ত হয়ে ব্যবসা পরিচালনার খরচ এবং পণ্যের মূল্য উভয়ই বৃদ্ধি করছে। এতে করে আন্তর্জাতিক স্টান্ডার্ডের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কাস্টমস আইন, ২০২৩ ঘোষিত হলেও পেপারলেস কাস্টমস, প্রিঅ্যারাইভাল প্রসেসিং, রিস্ক বেইজড এক্সামিনেশন ইত্যাদি পদ্ধতি অনুসরণের মাধ্যমে দ্রুত কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের সুফল ব্যবসায়ীরা পাচ্ছে না।

তাই, চেম্বার সভাপতি আন্তর্জাতিকমান অনুসরণ করে দেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করে আমদানীকৃত পণ্যের শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সহজীকরণের মাধ্যমে দ্রুত পণ্য খালাস তথা ব্যবসা পরিচালন ব্যয় হ্রাসের মাধ্যমে দেশীয় পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক ধার বজায় রাখার লক্ষ্যে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য এনবিআর চেয়ারম্যানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবেড়িবাঁধের কাজ নিয়ে দুর্নীতি হতে দেব না
পরবর্তী নিবন্ধদুর্ভোগ কমাতে সরকার তাৎক্ষণিক ও সমন্বিতভাবে কাজ করছে