কালবৈশাখীর ক্ষতি পেরিয়ে আখ চাষে লাভের আশা

জগলুল হুদা, রাঙ্গুনিয়া | সোমবার , ২৪ আগস্ট, ২০২৬ at ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ

ধান চাষে কাক্ষিত দাম না পেয়ে এবং লোকসানের মুখ থেকে বাঁচতে রাঙ্গুনিয়ায় দিন দিন বাড়ছে লাভজনক আখ চাষ। আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় এ বছর কালবৈশাখী ঝড়ে কিছুটা ক্ষতি হলেও অধিক ফলন ও চড়া দামের কারণে কৃষকদের মুখে এখন হাসির ঝিলিক। বাংলাদেশ ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএসআরআই) উদ্ভাবিত উন্নত জাতের আখ চাষ করে এলাকার বহু কৃষক অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে রাঙ্গুনিয়ায় মোট ৩৮ হেক্টর জমিতে আখের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে বিএসআরআই৪২ জাতের ৮ হেক্টর (গতবার ৯ হেক্টর), বিএসআরআই৪৭ জাতের ২১ হেক্টর (গতবার ২২ হেক্টর), ঈশ্বরদী৩৯ জাতের ৪ হেক্টর এবং জনপ্রিয় ব্ল্যাক রুবি জাতের ৫ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে। উপজেলার ইসলামপুর, পোমরা ও পদুয়া এলাকায় এবার সবচেয়ে বেশি আখের খেত দেখা গেছে। গত বছরের তুলনায় সামান্য কম জমিতে আবাদ হলেও উৎপাদন ও পরিচর্যায় এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন শুধু আখের সবুজ সমারোহ। রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ঘাটচেক এলাকার কৃষক মোহাম্মদ ফরিদ ১০ গন্ডা জমিতে আখ চাষ করেছেন। কালবৈশাখীর ঝড়ে কিছু ক্ষতি হলেও এর মধ্যে তার লক্ষাধিক টাকার আখ বিক্রি হয়েছে। আরও ১ লাখ ১০ থেকে ২০ হাজার টাকার আখ বিক্রির আশা করছেন তিনি।

পড়াশোনার পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই আখ চাষ করছেন রাঙ্গুনিয়া কলেজের ছাত্র মোহাম্মফ আরিফ। তিনি এক কানি জমিতে আখ চাষ করেছেন। এ বছর কালবৈশাখী তাণ্ডবে আখের ক্ষেত মাটিতে লুটিয়ে পড়লেও হাল ছাড়েননি তিনি। শ্রমিক লাগিয়ে এবং বাড়তি পরিচর্যা করে আখগুলো আবার সোজা করতে হয়। এতে তার সব মিলিয়ে ১ লাখ টাকার মতো খরচ হলেও ৫ লাখ টাকার বেশি আখ বিক্রির আশা করছেন তিনি।

চাষিরা জানান, পরিচর্যা ও শ্রমিক বাবদ খরচ কিছুটা বেড়ে গেছে। পাইকারি বাজারে কৃষকদের কাছ থেকে আকারভেদে প্রতিটি আখ ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়। খুচরা বাজারে বা পাইকারদের হাত ধরে তা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, এমনকি আকারভেদে কোনো কোনো বড় আকৃতির আখ দেড়শ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। তাদের মতে, সরকারিভাবে সার বা আর্থিক প্রণোদনা দিয়ে উৎসাহিত করা হলে এই জনপদে আখের আবাদ আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা প্রণব চন্দ্র মজুমদার বলেন, কৃষকদের সার্বিক পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। সঠিক পরিচর্যা এবং নিয়মিত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে রাঙ্গুনিয়ায় আখ চাষ কৃষকদের অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.); আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ নেয়ামত
পরবর্তী নিবন্ধশিক্ষার্থীদের দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে