কক্সবাজারে মাদক ব্যবসায়ী খোকা গ্রেফতার

কক্সবাজার প্রতিনিধি

শনিবার , ১ জুন, ২০১৯ at ৮:০২ অপরাহ্ণ
859

কক্সবাজার শহরের পর্যটন এলাকা কলাতলী লাইটহাউস পাড়ার কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী, ছিনতাইকারী, চাঁদাবাজ ও পতিতা ব্যবসায়ী যুবলীগ নেতা নামধারী সন্ত্রাসী সাদেক হোসেন খোকাকে অবশেষে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সদর থানা পুলিশের একটি দল শুক্রবার (৩১ মে) রাতে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তার বাসা ঘেরাও করে সেখান থেকে তাকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে। তার গ্রেফতারের পর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী উল্লাস প্রকাশ করে।
উল্লেখ্য, মাদক ব্যবসায়ী খোকা ও তার বাহিনীর অত্যচারে দীর্ঘদিন অতিষ্ঠ ছিল এলাকাবাসী।

এলাকাবাসী সূত্র জানায়, লাইটহাউস এলাকার চোরা ফরিদের ছেলে সাদেক হোসেন খোকা, ওরফে ডাকাত খোকা দীর্ঘদিন ধরে তার নিজ বাড়িকে (সরকারি জমি) হোটেল বানিয়ে সেখানে মাদক ও পতিতা ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। পাশাপাশি সী-পার্ল হোটেলের সামনে অবৈধভাবে দুটি টং দোকান বসিয়ে সেখানেও মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। এসব দোকান আবার খদ্দেরও যোগাড় করত। দোকান ছাড়াও আরো ১০-১২ জন ভ্রাম্যমান দালাল পর্যটন এলাকার বিভিন্ন মোড়ে ও হোটেলের সামনে অবস্থান নিয়ে চালায় মাদকের ব্যবসা। এরা ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও জমি দখলসহ আরো নানা অপরাধেও জড়িত।

কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র থেকে আনবিক শক্তি কমিশন পর্যন্ত এলাকায় এ বাহিনীর অপতৎপরতা। এছাড়া প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে নিজ বাসাবাড়ীতে রাতব্যাপী নাচগান ও মাদকের আসর বসাত খোকা। উচ্চস্বরে গানবাজনার কারণে তার প্রতিবেশীরা বৃহস্পতিবার রাতে নির্ঘুম রাত কাটায়। প্রতিবাদ করলে হুমকি, গালিগালাজ ও হামলা চালানো হয়। ফলে মানসম্মানের ভয়ে এলাকার ভদ্র সমাজ তাকে এক প্রকার এড়িয়ে চলত।
যুবলীগের নাম ব্যবহার করেই খোকা এমন তৎপরতা চালায় বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

এমনকি খোকার অত্যাচারে খোদ যুবলীগের নেতাকর্মীরাও ছিল অতিষ্ঠ। গত সপ্তাহে এক যুবলীগ নেতার মোটরসাইকেল ছিনতাই করে নিজের বলে দাবি করে খোকা। বিষয়টি জেলা যুবলীগের শীর্ষ নেতাদের মাঝেও তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।

পরে স্থানীয় কাউন্সিলর ও আওয়ামীলীগ নেতা কাজী মোর্শেদ আহমদ বাবু এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা কাজী রাসেল আহমদের নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা খোকার কবল থেকে যুবলীগ নেতার মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে। এর আগে গতমাসে রাজু নামের এক ব্যক্তির একটি সিএনজি টেক্সি খোকা তার বাহিনীর মাধ্যমে ছিনতাই করে।

পরে সিএনজিটি উদ্ধার করা হলেও ভয়ে মামলা করেনি ভুক্তভোগী সিএনজি স্টেশনের কর্মচারি রাজু।
স্থানীয়রা আরো জানান, খোকার অবৈধ কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করায় রিদুয়ান নামের এক যুবককে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত করে খোকা। এর আগে স্থানীয় আবদুর সবুর কোম্পানীর এক কর্মচারিকেও অপহরণের পর মারধর করে খোকা বাহিনী।

লাইটহাউস এলাকার বাসিন্দা মোর্শেদা বেগম বলেন, খোকা বাহিনী প্রধান ও মাদক ব্যবসায়ী খোকাইয়ার অত্যাচারে আমরা এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে অতিষ্ঠ।

কক্সবাজার পৌরসভার ১২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আওয়ামীলীগ নেতা কাজী মোর্শেদ আহমদ বাবু ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা কাজী রাসেল আহমদ বলেন, এলাকার মানুষ প্রায়ই খোকার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ নিয়ে আসে। এলাকার মানুষ তার উপর চরম অতিষ্ঠ।

কক্সবাজার জেলা যুবলীগের সভাপতি সোহেল আহমদ বাহাদুর সন্ত্রাসী খোকার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, যুবলীগের সাথে সন্ত্রাসী সাদেক হোসেন খোকার কোন সম্পর্ক নেই। আমরা পুলিশ প্রশাসনকে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাই।

এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর থানার ওসি ফরিদউদ্দিন খোন্দকার বলেন, সন্ত্রাসী সাদেক হোসেন খোকাকে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ইয়াবাসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

x