নগরীর খুলশীর আমবাগান এলাকায় হিজড়াদের একাংশের গুরুমা মোহাম্মদ মহসীন প্রকাশ মৌসুমী খুনে জড়িত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ফাল্গুনী নামের অপর একজন হিজড়ার তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল সোমবার সকালে নগরীর পাহাড়তলীর সাগরিকা এলাকা থেকে মো. মোমিন প্রকাশ শেখ রনি নামের ৩৪ বছর বয়সি ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতে পাঠানো হলে মৌসুমীকে খুনের দায় স্বীকার করে তিনি জবানবন্দি দেন।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহিদুল ইসলাম তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এতে বলা হয়, মৌসুমী ও শেখ রনি পূর্ব পরিচিত ছিলেন। মাঝেমধ্যে তাদের সাক্ষাৎ হতো। ঘটনার দিন ৫ হাজার টাকা দেবেন বলে শেখ রনিকে ডেকে নিয়েছিলেন মৌসুমী নিজেই। তাকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ব্লেকমেইল করতে থাকেন মৌসুমী। টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও সেটিও দিচ্ছিলেন না। এসব কারণে রেগে গিয়ে মৌসুমীর উপর চড়াও হন শেখ রনি। একপর্যায়ে মৌসুমীর পায়জামার রশি গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে মৌসুমীকে হত্যা করা হয়। মৃত্যু নিশ্চিত বুঝতে পারার পর রনি ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত সটকে পড়ে আত্মগোপনে চলে যান।
আদালত ও খুলশী থানা পুলিশ সূত্র আজাদীকে এসব তথ্য নিশ্চিত করে জানান, শেখ রনি জুয়া খেলায় আসক্ত ছিলেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল এলাকায় তার গ্রামের বাড়ি। থাকতেন সাগরিকার পাঠান পাড়া এলাকায় ফাল্গুনী হিজড়ার বাসায়। ফাল্গুনীর পার্টনার ছিলেন তিনি। তবে মৌসুমীর সাথেও তার বন্ধুত্ব ছিল।

গত শনিবার আমবাগান শহীদ মিনার কলোনির বাসা থেকে মৌসুমী হিজড়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। বাসার দরজা বাইরে থেকে বন্ধ দেখে মৌসুমীর শিষ্যদের সন্দেহ হয়। পরে তারা দরজা খুল ভেতরে প্রবেশ করে মৌসুমীকে উপুড় হয়ে শোয়া দেখতে পান। শিষ্যরা সেদিন জানিয়েছিলেন, উপুড় হয়ে পড়ে ছিল মৌসুমীর মরদেহ। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। চোখেও আঘাতের চিহ্ন ছিল। গলায় কালো দাগ দেখা গেছে। এমনকি মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল।
প্রতিবেশীরা জানিয়েছিলেন, শুক্রবার রাত ২টার দিকেও মৌসুমীর সাথে তাদের কথা হয়েছে। নানা বিষয়ে গল্প করেছেন। পরে তিনি নিজের ঘরে চলে যান। ওই ঘরে তিনি একাই থাকতেন। পুলিশ মৌসুমীর লাশ উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠালে সেখানে জড়ো হন হিজড়াদের অনেক অনুসারী। তারা জানিয়েছিলেন, মৌসুমী ভালো ছিলেন। কারো সাথে বিরোধ ছিল না। কেউ সাহায্য চাইলে সাথে সাথে তিনি টাকা–পয়সা দিয়ে সাহায্য করতেন।
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম আজাদীকে বলেন, ঘটনার পরপর আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন লোকের সাথে কথা হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, এক ব্যক্তি মৌসুমীর ঘরে প্রবেশ করেন। একই ফুটেজে ওই ব্যক্তিকে বের হয়ে যেতেও দেখা যায়। তখনও ওই ব্যক্তিকে আমরা শনাক্ত করতে পারিনি। পরে নানা তৎপরতা চালিয়ে তাকে শনাক্ত করতে সক্ষম হই। আমরা জানতে পারি, ওই ব্যক্তি হলেন মো. মোমিন প্রকাশ শেখ রনি। পরে তার অবস্থান খুঁজে বের করার চেষ্টা করতে গিয়ে ফাল্গুনী নামের অপর একজন হিজড়ার তথ্য আসে আমাদের কাছে। ফাল্গুনীর পার্টনার হচ্ছেন শেখ রনি। আমরা প্রথমে ফাল্গুনীকে খুঁজে বের করি। তার কাছ থেকে তথ্য নিয়ে সাগরিকা থেকে শেখ রনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। রনি প্রাথমিকভাবে খুনের দায় স্বীকার করেছেন। তবে তদন্ত চলমান থাকবে।












