রমজানে ইফতার বাজার শুধু কেনাকাটার জায়গা নয়, অনেকের জন্য তা হয়ে ওঠে স্বপ্ন দেখারও সুযোগ। চট্টগ্রাম নগরীতে সেই স্বপ্নকে বাস্তব মঞ্চ দিয়েছে উৎসব সুপার মার্কেট। পাঁচলাইশ ও হালিশহর শাখায় নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণে সাজানো হয়েছে বিশেষ ইফতার আয়োজন, যেখানে ঘরোয়া রান্নার স্বাদ মিশেছে পেশাদার ব্যবস্থাপনায়। প্রায় ২০০ জনের মধ্য থেকে বাছাই করা ২৫ নারী উদ্যোক্তার হাতে তৈরি নানা পদ প্রতিদিন পৌঁছে যাচ্ছে অসংখ্য রোজাদারের টেবিলে।
আয়োজক সূত্র জানায়, মান, স্বাস্থ্যবিধি ও ধারাবাহিক সরবরাহ সক্ষমতার ভিত্তিতে উদ্যোক্তাদের নির্বাচন করা হয়েছে। লক্ষ্য ছিল–এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা, যেখানে ক্ষুদ্র উদ্যোগগুলো নিরাপদ পরিবেশে নিজেদের পণ্য তুলে ধরতে পারবেন। প্রতিদিন বিকেল থেকে ইফতারের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত দুই শাখাতেই জমে উঠছে ভিড়।
ইফতার কর্নারে রয়েছে আরবীয়, তুর্কি, পাকিস্তানি, ভারতীয় ও মিশরীয় বিভিন্ন স্বাদের খাবার। পাশাপাশি দেশীয় ঐতিহ্যবাহী পদও রাখা হয়েছে সমান গুরুত্ব দিয়ে। চিকেন টিক্কা, দই বড়া, হালিম, হারিয়ালি কাবাব, আফগানি মালাই কাবাব, স্মোকি চিকেন স্টিক, চিকেন কোফতা, বাও বান, স্ট্রবেরি লাচ্ছি, জাফরানি বাদাম মিল্কশেক, কাতাইফ, পিঠা–পুলিসহ নানা পদে সাজানো প্রতিটি স্টল।
উদ্যোক্তা উম্মে কুলসুম বলেন, ছয় বছর ধরে তিনি হোমমেড খাবার নিয়ে কাজ করছেন। তিন বছর ধরে উৎসবের সঙ্গে যুক্ত। পেশাগতভাবে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের সহকারী হলেও রান্নাই তার পরিচয়ের বড় অংশ। তিনি বলেন, হাসপাতালের চিকিৎসকরাও আমার খাবার নেন। এখানেও ক্রেতারা খুব ভালো সাড়া দিচ্ছেন। এবার তিনি হারিয়ালি কাবাব, চিকেন মালাই শিক কাবাব, চিকেন লাফিফা কাবাব, চিকেন পিজা কুলফি, চিকেন চপ, চিকেন এগ রোল, চিকেন পাটিশাপটা, দুধ লুচি ও বিনি পিঠাসহ একাধিক পদ এনেছেন। তার দাবি, প্রতিদিন আনা পণ্যের বড় অংশই ইফতারের আগেই বিক্রি হয়ে যায়। আরেক উদ্যোক্তা আজিফা মনজুর সুচি জানান, অনলাইনভিত্তিক ব্যবসা দিয়ে শুরু করলেও সরাসরি বড় পরিসরে পণ্য বিক্রির সুযোগ এবারই প্রথম। খাবার আনার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। সরাসরি ক্রেতাদের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়, সেটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। তার স্টলে রয়েছে চিকেন কোফতা, স্মোকি চিকেন স্টিক, আফগানি মালাই কাবাব, বাও বান, সাবো ড্রিংকস, স্ট্রবেরি লাচ্ছি ও কাতাইফ। উৎসব কর্তৃপক্ষ জানায়, উদ্যোক্তারা শুধু খাবার প্রস্তুত করে নিয়ে আসেন। সংরক্ষণ, ডিসপ্লে, বিলিং, প্রচারণা–সব দায়িত্ব নেয় মার্কেট কর্তৃপক্ষ। খাবার রাখার পাত্র পর্যন্ত সরবরাহ করা হচ্ছে তাদের পক্ষ থেকে। আলাদা কর্নারে ঘিয়ে ভাজা লাইভ জিলাপি ও হালিমও পাওয়া যাচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল হক আজাদ বলেন, সব পণ্য বারকোড স্ক্যানের মাধ্যমে বিক্রি হয়। এতে স্বচ্ছতা থাকে, উদ্যোক্তারাও তাদের বিক্রির হিসাব পরিষ্কারভাবে পান। আমরা চাই স্থানীয় নারী উদ্যোক্তারা বড় পরিসরে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করুন। তিনি জানান, বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার বিকাশে পেমেন্ট করলে নির্দিষ্ট পণ্যে ক্যাশব্যাক সুবিধা রয়েছে। এক জায়গায় ইফতারি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার সুযোগ থাকায় ক্রেতাদের সময়ও বাঁচছে।
ক্রেতা সামিয়া আক্তার ইসলাম বলেন, একসঙ্গে এত ধরনের হোমমেড ইফতারি পাওয়া সহজ নয়। এখানে এসে পরিবারের জন্য বিভিন্ন আইটেম নিতে পারছি। স্বাদ ও মান দুটোই ভালো। সানজিদা খানম বলেন, নারী উদ্যোক্তাদের এমন উদ্যোগ সমর্থন করা উচিত। উপস্থাপনা পরিচ্ছন্ন, দামও সহনীয়। সবচেয়ে ভালো লেগেছে এক জায়গায় সব পাওয়া যাচ্ছে।












