আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে গার্মেন্ট কারখানায় ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়া, সড়কে কুরবানির পশুর হাট না বসানো ও ভ্রাম্যমাণ আদালত বৃদ্ধিসহ নানা প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ঈদ উপলক্ষ্যে দেশব্যাপী যাত্রীদের নিরাপদ, স্বস্তির যাত্রা নিশ্চিত করতে সোমবার সচিবালয়ে প্রস্তুতিমূলক সভা হয়। পরে ব্রিফিংয়ে রবিউল আলম মন্ত্রিসভার কিছু সিদ্ধান্ত ও প্রস্তুতির কথা তুলে ধরেন।
পরে মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঈদযাত্রা নিরাপদ ও যানজটমুক্ত রাখতে ২০–৩১ মে বিআরটিএ সদর কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টাব্যাপী কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ পরিচালিত হবে। এই নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক ও যানজটপ্রবণ এলাকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক মনিটরিং, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় প্রতিরোধ এবং পুলিশ, স্বাস্থ্য বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। এ ছাড়া ঈদ উপলক্ষ্যে সারা দেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য বিআরটিএ’র ১৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পাশাপাশি আরও ৫০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, যানজট নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ টোল প্লাজা এবং যানজটপ্রবণ এলাকায় ঈদের সাত দিন আগে থেকে ঈদ–পরবর্তী তিন দিন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিজিবি মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও রোভার স্কাউট সদস্যদেরও দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত রাখা হবে। ঈদযাত্রায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে বিআরটিসি ঢাকা মহানগর থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা ও গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে বিশেষ ঈদ সার্ভিস পরিচালনা করবে।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সড়কের নিরাপত্তা জোরদারে দুর্ঘটনাপ্রবণ মহাসড়কে ‘কনভেক্স ব্লাইন্ড স্পট মিরর’ স্থাপন, ব্ল্যাক স্পটগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং চালকদের ডোপ টেস্ট কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের ১০টি বিশেষ চিকিৎসক দল পেশাজীবী চালকদের ডোপ টেস্ট পরিচালনা করবে।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সভাপতিত্বে সভায় সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, গতবার ঈদযাত্রায় যে ব্যত্যয়গুলো হয়েছিল, এবার আরও অধিক মনোযোগী হয়ে ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে সেটা কীভাবে নিরসন করা যায়, সেই লক্ষ্যেই আজকের সভা।
আমাদের প্রতিটি জাতীয় উৎসব বিশেষ করে ঈদ উৎসবে লাখ লাখ মানুষ নাড়ির টানে বাড়ি ফেরে। মাটির টানে উৎসে ফিরে যান, আনন্দ ভাগাভাগি করেন স্বজনদের সঙ্গে। গ্রামের সঙ্গে যাদের আত্মিক সম্পর্কটি এখনো অটুট ও অম্লান রয়েছে, তারা যেভাবেই হোক ঘুরে আসবে। দুর্যোগ কিংবা প্রতিকূল অবস্থাকে মাড়িয়ে তারা ছুটে যায় গ্রামে। এটি আমাদের সামাজিক সংহতিকেও সুদৃঢ় করে। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ঈদের সময় ঘরমুখো যাত্রীদের মধ্যে ১০ ভাগ রেল পথে, নদীপথে ৫ ভাগ ও বাকি ৮৫ ভাগ যাত্রী বিভিন্ন যানবাহন ও বাসের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু রাস্তাঘাটের অবস্থা মোটামুটি ভালো হলেও তা যথেষ্ট নয়। তাই সেই সুযোগে পরিবহন মালিকরা ঈদের আগে ও পরে নানা অজুহাতে টিকেট সংকট দেখিয়ে ভাড়া যেমন অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি করে তেমনি যাত্রীদের সংকটও বাড়িয়ে তোলে। কিন্তু এই সংকট কালেও মানুষ বিশেষ করে গ্রামের বাড়িতে মা–বাবা, ভাই বোন, স্ত্রী সন্তান, পাড়া প্রতিবেশী ও আত্মীয় স্বজনদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগ করতে ক্রুটিপূর্ণ, ফিটনেসবিহীন, অনিবন্ধিত লঞ্চ বা বাসে, এমন কি কেউ কেউ লক্কর ঝক্কর মার্কা গাড়িতে, বা ট্রেনের ছাদে, নৌযানে, বাসের ছাদে ও ভেতরে বাহিরে ঝুলিয়ে যেতে বাধ্য হয়। অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই এর ফলে প্রতি বছর ছোট–বড় দুর্ঘটনায় ঈদের আনন্দ বিষাদে রূপ নেয় অনেকের। এর মধ্যে বেপরোয়া মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা অন্যতম। এছাড়া সাধারণত ঈদের সময় চুরি ও ছিনতাই, মলম পাটি ও অসৎ ব্যক্তিদের তৎপরতা অনেক অংশে বেড়ে যায়। এদের ফাঁদে পড়ে অনেকে হারায় কষ্টের অর্জিত সম্পদ ও ঈদের কেনাকাটার জিনিসপত্র।
বিশ্লেষকরা বলেন, এই যে ঈদে মাটির টানে বাড়ি ফেরা হাজার হাজার নারী–পুরুষ ও শিশুর যাত্রাকে নিরাপদ করা সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব। ঈদের আনন্দ যাত্রা যেন দুঃখ–শোকের না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ঈদে মাটির টানে যাওয়া এবং ঈদের পরে মানুষের ফিরে আসা যাতে স্বস্তিদায়ক হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সর্বোচ্চ সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে সড়কে তদারকি ও নজরদারি বাড়ানোর বিকল্প নেই।









