ই-ফ্যামেলি কোর্ট চালু ও নতুন আদালত সৃজনে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার

বিচার বিভাগীয় সম্মেলনে সিনিয়র জেলা জজ হেমায়েত উদ্দিন দশ মাসে দেওয়ানি বিরোধ নিষ্পত্তির হার বেড়েছে

আজাদী প্রতিবেদন | রবিবার , ২৩ নভেম্বর, ২০২৫ at ৭:৩৬ পূর্বাহ্ণ

আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য একটি স্বাধীন, শক্তিশালী বিচার বিভাগ থাকা অপরিহার্য। আইনের প্রতি সকল নাগরিকের সমান শ্রদ্ধা, জনবান্ধব ও কার্যকর আইন, পক্ষপাতহীন বিচার এবং আইনের শাসনের প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। বিচারপ্রার্থীদের বিচারিক দুর্ভোগ লাঘবে ইফ্যামেলি কোর্ট চালুসহ দ্রুত সময়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিতকল্পে নতুন আদালত সৃজনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। গতকাল শনিবার সকালে চট্টগ্রামের জেলা জজ আদালতের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত বিচার বিভাগীয় সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রামের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. হেমায়েত উদ্দিন এসব কথা বলেন। সিনিয়র সিভিল জজ আব্দুল্লাহ আল হাসিবের সঞ্চালনায় সম্মেলনে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে চট্টগ্রাম জজশিপের মামলা দায়ের ও নিষ্পত্তি পরিসংখ্যান উপস্থাপন করেন অর্থঋণ আদালত১ এর বিচারক (যুগ্ম জেলা জজ) মো. হেলাল উদ্দিন। চট্টগ্রাম ম্যাজিস্ট্রেসিতে মামলা দায়ের ও নিষ্পত্তি পরিসংখ্যান উপস্থাপন করেন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. নুরুল হারুন। সম্মেলনে ফৌজদারি মামলা নিষ্পত্তিতে চিহ্নিত প্রতিবন্ধকতা সংক্রান্ত বিষয় উপস্থাপন করেন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং দেওয়ানি মোকদ্দমা নিষ্পত্তিতে চিহ্নিত প্রতিবন্ধকতা সংক্রান্ত বিষয় উপস্থাপন করেন পটিয়া আদালতের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ নাজমুল হোসেন চৌধুরী। সম্মেলনে সরকারি আইনি সহায়তা কার্যক্রমে জেলা লিগ্যাল এইড অফিস বিষয়ক পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেনটেশন করেন চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার (বিচারক) রূপন কুমার দাশ। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোহাগ তালুকদার, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দা হাফছা ঝুমাসহ বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা এবং চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ডেপুটি সিভিল সার্জন, সিনিয়র জেল সুপার, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, সরকারি কৌঁসুলি (জিপি) ও জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর। সম্মেলনে জানানো হয়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলা জজশিপে ১৩ হাজার ৪৪৭টি দায়রা মামলা রুজু হয়েছে। একই সময়ে ১৩ হাজার ৪১০টি দায়রা মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। উক্ত সময়ে দেওয়ানি মোকদ্দমা দায়ের হয়েছে ৪৪ হাজার ৮২০টি। বিপরীতে দেওয়ানি মোকদ্দমা নিষ্পত্তি হয়েছে ৫৮ হাজার ৫২টি। জেলা ও দায়রা জজ আদালতে দেওয়ানি মোকদ্দমা ও দায়রা মামলায় মোট ১৪ হাজার ৬০০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গৃহীত হয়েছে।

চট্টগ্রামের ৩টি অর্থঋণ আদালত জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত অর্থ আদায় করেছে ৯৭০ কোটি ৮৫ লাখ ৯৬ হাজার ৮৩০ টাকা। লিগ্যাল এইড অফিস চট্টগ্রামে দশ মাসে ১ হাজার ৫৪০টি প্রিকেইস এবং ১২১টি পোস্ট কেইস আবেদনের প্রেক্ষিতে মেডিয়েশনের মাধ্যমে আপসে নিষ্পত্তি হয়েছে ১ হাজার ২৭৮টি বিরোধ। উক্ত সময়ে মেডিয়েশনের মাধ্যমে মোট অর্থ আদায় হয়েছে ২ কোটি ৭৩ লাখ ২০ হাজার ৪৯৬ টাকা। দশ মাসে লিগ্যাল অফিসের মাধ্যমে দেওয়ানি বিরোধ নিষ্পত্তির হার পূর্বের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে বলা হয়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত চট্টগ্রামের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আমলি আদালত ও বিচারিক আদালতে মোট দায়েরকৃত মামলা সংখ্যা ২৭ হাজার ৫০০টি। উক্ত সময়ে নিষ্পত্তি হয়েছে প্রায় ২২ হাজার মামলা। আদালতটিতে উক্ত সময়ে ৩৪ হাজার ৫০০ জনের সাক্ষ্য গৃহীত হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবন্দর রক্ষা পরিষদের অবরোধ কাল
পরবর্তী নিবন্ধচিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরা হলো না চাচা-ভাতিজার, হাটহাজারীর সড়কে নিহত ২