ইসলাম ধর্ম গ্রহণের খবর সত্য নয় : রবার্তো কার্লোস

স্পোর্টস ডেস্ক | শুক্রবার , ২১ আগস্ট, ২০২৬ at ৭:৩৯ পূর্বাহ্ণ

রবার্তো কার্লোসকে নিয়ে গুঞ্জনটা চলছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। বিশেষ করে, সামাজিক মাধ্যমে ছিল তুমুল তোলপাড়। ফুটবল কিংবদন্তিকে নিয়ে কৌতূহলের জোয়ার চলছিল ফুটবলের বাইরের কারণে। অবশেষে সেটি নিয়ে মুখ খুললেন তিনি। ব্রাজিলের তারকা জানালেন, তার ইসলাম ধর্ম গ্রহণের খবরটি সঠিক নয়। সমপ্রতি মরক্কোর ব্যবসায়ী এজেন্ট সুহাইলা তাহিরির সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন কার্লোস। সেটির সূত্র ধরেই গুঞ্জন ছড়াতে থাকে। সামাজিক মাধ্যমে কিছু ছবি ছড়িয়ে পড়ে, যেগুলোর একটিতে দেখা যায়, ইসলামিক রীতিতে বিয়ে সম্পন্ন হচ্ছে এবং সেখানে কার্লোসও আছেন। এরপর খবর ছড়িয়ে পড়তে থাকে, ব্রাজিলের মুসলিম সমপ্রদায়ের সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব শেখ জিহাদ হামাদার সঙ্গে এক বৈঠকে কালিমা পাঠ করে প্রায় চার সপ্তাহ আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন কার্লোস। শরিয়া কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ইসলামিক রীতিতে তার বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার খবরও ছড়ায়। এবার কার্লোস নিজেই সেই ভুল ভাঙলেন সৌদি আরবের পত্রিকা ওকাজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে। ‘ইসলামের প্রতি আমার সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা রয়েছে এবং আমার স্ত্রীকে নামাজ পড়তে দেখাটা চমৎকার, কিন্তু আমার ইসলাম ধর্ম গ্রহণ নিয়ে যে গুজব ছড়াচ্ছে, তা অসত্য।’ বিয়ের প্রসঙ্গে ৫৩ বছর বয়সী তারকা জানান যে, দুজনের ধর্মের প্রতি সম্মান জানিয়ে উভয় রীতিতেই বিয়ে হয়েছে। যেহেতু তার পরিবারের সদস্যরা ক্যাথলিক, তাই তারা তাদের বিশ্বাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ অনুষ্ঠানের পাশাপাশি তার স্ত্রী এবং তার মুসলিম বন্ধুদের জন্য উপযুক্ত অন্যান্য অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করতে আগ্রহী ছিলেন। মূলত স্ত্রীর ধর্মীয় অনুভূতি ও বন্ধুদের সম্মানে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানের কারণেই অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। কার্লোস স্পষ্ট করেছেন, স্ত্রীর ধর্মের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার অর্থ এটা নয় যে তিনি নিজে ধর্ম পরিবর্তন করেছেন।

স্ত্রীর সঙ্গে তার পরিচয় ও পরিণয়ের পেছনের গল্পও শোনান কার্লোস। ২০০২ বিশ্বকাপ জয়ী সর্বকালের সেরা লেফট ব্যাকদের একজন জানান, ফুটবলসম্পর্কিত একটি ব্যবসায়িক বৈঠকে তাদের দেখা হয়েছিল। ক্রমে সেই সম্পর্ক নতুন মোড় নেয়। বিশ্বকাপজয়ী তারকা জানান, তার স্ত্রী একজন সফল ব্যবসায়ী এবং তাদের সম্পর্কটি ব্যক্তিগত ও পেশাগত উভয় দিক থেকেই দুই বছর ধরে চলছে। আনুষ্ঠানিকভাবে এটি ৫৩ বছর বয়সী কার্লোসের তৃতীয় বিয়ে। প্রথম স্ত্রী আলেকজান্দ্রা পিনহেইরোর সঙ্গে ২০০৩ সালে বিবাহবিচ্ছেদ হয় তাঁর। সেই সংসারে তাঁর তিন সন্তান। এরপর ২০০৯ সালের জুনে তিনি দ্বিতীয় স্ত্রী মারিয়ানা লুকনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং দীর্ঘ ১৫ বছরের বেশি সময় সংসার করার পর ২০২৫ সালের শুরুতে তাঁদের বিচ্ছেদ ঘটে। এই সংসারে কার্লোসের ২টি কন্যাসন্তান রয়েছে। সব মিলিয়ে ৭ জন নারীর গর্ভে কার্লোসের ১১ সন্তান। ২০১৭ সালের অক্টোবরে তাঁর মেয়ে জিওভানা এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেওয়ায় তিনি এরই মধ্যে নানাও হয়ে গেছেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবাঁশখালীতে চাইনিজ মার্শাল আর্ট উশু একাডেমির উদ্বোধন
পরবর্তী নিবন্ধচব্বিশের গণঅভ্যুত্থান ক্রীড়া উৎসব হ্যান্ডবল টুর্নামেন্টের জার্সি উন্মোচন