ফ্রান্স ও স্পেনে কয়েক দশকের মধ্যে ভয়াবহ দাবানলের মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে নতুন এক বিপদ, যার নাম আগুনে মেঘ বা ফায়ার ক্লাউড। খবর বিডিনিউজের।বিজ্ঞানের পরিভাষায় একে বলা হয় পাইরোকিউমুলোনিম্বাস বা পাইরোসিবি। সহজ কথায়, এটি বিশাল এক বজ্রঝড়ের মেঘ, যা দাবানলের প্রচণ্ড তাপ থেকে নিজে নিজেই তৈরি হয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, একবার তৈরি হলে এই মেঘ নিজেই আগুনকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে। ফলে আগুন দ্রুত ছড়ায়, নতুন নতুন স্থানে দাবানল শুরু হয় এবং পরিস্থিতি হয়ে ওঠে আরও অনিশ্চিত ও বিপজ্জনক। ফ্রান্সের দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চল এবং স্পেনের মধ্যাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া দাবানলের কারণে ইতোমধ্যে তিন লাখের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
ফ্রান্সের জিরোন্দ অঞ্চলে ২২ জুলাই শুরু হওয়া এ দাবানল ইতোমধ্যে ৪২০ বর্গকিলোমিটার বনভূমি পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছে, যা আয়তনে প্যারিস শহরের প্রায় চারগুণ। আগুনে ধ্বংস হয়েছে প্রায় আড়াইশ ঘরবাড়ি, আহত হয়েছেন অন্তত ৮০ জন অগ্নিনির্বাপক কর্মী। অন্যদিকে, স্পেনে মাদ্রিদের পশ্চিম ও দক্ষিণে প্রায় ৭৭০ বর্গকিলোমিটার এলাকা পুড়ে গেছে। এর মধ্যে আভিলা প্রদেশের দাবানলটি স্পেনের ইতিহাসে সবচেয়ে বড়, প্রায় ৫০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে জ্বলছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ একে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় দাবানল সংকট হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এর মধ্যেই অগ্নিনির্বাপক কর্মীদের লড়তে হচ্ছে ফায়ার ক্লাউড নামের এক বিরল অভিজ্ঞতার সঙ্গে। কী এই ফায়ার ক্লাউড, কীভাবে তা তৈরি হয়, ‘ফায়ার ক্লাউড‘ কীভাবে বিপদ বাড়িয়ে তুলছে, সেসব তথ্য নিয়ে একটি এক্সপ্লেইনার প্রকাশ করেছে টাইম ম্যাগাজিন। কী এই ফায়ার ক্লাউড? যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা একসময় একে বলেছিল, মেঘের আগুন–উগরে দেওয়া ড্রাগন। ফরাসি ন্যাশনাল সেন্টার ফর সায়েন্টিফিক রিসার্চের গবেষক জ্যঁ–ব্যাপতিস্ত ফিলিপি জানান, দাবানলের প্রচণ্ড তাপে ভূমির কাছের বাতাস অত্যন্ত দ্রুত ওপরে উঠতে থাকে।











