প্রায় আড়াই মাস পর স্বাভাবিক হলো চট্টগ্রামসহ সারা দেশের নিম্ন আদালতের বিচারিক কার্যক্রম। উচ্চ আদালতের নির্দেশে গতকাল রোববার থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়। এর ফলে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থী মানুষ স্বস্তি বোধ করছেন। এখন থেকে মামলার হাজিরা, সাক্ষ্যগ্রহণ, চার্জ গঠন, এমনকি রায় ঘোষণা কার্যক্রম পরিচালনা করতে বাধা নেই।
আদালত সূত্র জানায়, দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হলে গত ১১ এপ্রিল থেকে নিম্ন আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ করে ভার্চুয়াল কোর্ট চালু করা হয়। তবে আইনজীবীদের দাবির প্রেক্ষিতে মে মাস থেকে হাজতি আসামির জামিন, জিম্মা দরখাস্ত, রিমান্ড শুনানি, আত্মসমর্পণ ও মামলা ফাইলিং কার্যক্রম চলমান ছিল।
ভার্চুয়াল কোর্টে চার্জশিট গ্রহণ কার্যক্রম ও সিআর জিআর মামলার তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে মামলা আমলে নেওয়া বা খারিজ করার প্রক্রিয়াও বন্ধ ছিল। স্বাভাবিক কোর্ট চালু হওয়ায় এখন থেকে এসব কার্যক্রম চলবে।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সেক্রেটারি এএইচএম জিয়াউদ্দিন আজাদীকে বলেন, স্বাভাবিক কোর্ট প্রত্যাশিত ছিল। আমাদের অভিভাবক উচ্চ আদালতকে আমরা লিখিতভাবে তা অনেকবার জানিয়েছি। অবশেষে উচ্চ আদালত বিষয়টি আমলে নিয়েছেন। স্বাভাবিক কোর্ট চালু করেছেন।গত শনিবার নিম্ন আদালতের কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে উচ্চ আদালত। এতে উল্লেখ করা হয়, অধস্তন সকল দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত এবং ট্রাইব্যুনালসমূহে আগামী ২০ জুন থেকে শারীরিক উপস্থিতিতে স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
স্থানীয় প্রশাসন কোনো জেলা সদর, মহানগরে করোনাভাইরাসজনিত রোগের বিস্তার রোধকল্পে সার্বিক কার্যাবলি চলাচলে বিধিনিষেধ জারি করলে সংশ্লিষ্ট জেলার, মহানগরের দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত এবং ট্রাইব্যুনালসমূহে শারীরিক উপস্থিতি ব্যতিরেকে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে জামিন ও জরুরি দরখাস্ত শুনানি করা যাবে।
দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলায় যে ক্ষেত্রে আদালতে পক্ষগণের উপস্থিতির আবশ্যকতা নেই সেক্ষেত্রে পক্ষগণের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী আদালতে হাজিরা দাখিল করবেন। জামিন শুনানি এবং আমলি আদালতে ধার্য তারিখে হাজিরার জন্য কারাগারে থাকা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যান বা অন্য কোনোভাবে আদালত প্রাঙ্গণে বা এজলাস কক্ষে হাজির করার আবশ্যকতা নেই। এতে আরও বলা হয়, আদালতের বিচারিক কর্মঘণ্টার প্রথম ভাগে (সকাল ৯.৩০টা হতে দুপুর ১.১৫টা) সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক, আপিল রিভিশন, রিভিউ শুনানি এবং দ্বিতীয় ভাগে (দুপুর ২টা হতে বিকাল ৪.৩০ টা) জামিন সংক্রান্ত বিবিধ মামলা, জামিনের দরখাস্ত ও অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার দরখাস্তসহ অন্যান্য দরখাস্ত শুনানির জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ প্রদান করা হলো।













