আমেরিকার রাজনীতিতে ঝড় তোলা কে এই আবদুল এল সাইদ

| বুধবার , ১৯ আগস্ট, ২০২৬ at ৫:৪৬ পূর্বাহ্ণ

মিশিগানের ডেমোক্র্যাটদের প্রাথমিক নির্বাচনে চমক দেখিয়ে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন আবদুল এল সাইদ। সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও বামপন্থী মতাদর্শের এই রাজনীতিবিদ আগামী নভেম্বরে মিশিগান থেকে সিনেটর পদে নির্বাচন করবেন। নির্বাচনে জয়ী হলে তিনি হবেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর। আগস্টের শুরুতে ডেমোক্র্যাটদের মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার পর বিজয় ভাষণে নিজের পরিবারের অতীতের গল্প তুলে ধরেন আবদুল এল সাইদ। খবর বিডিনিউজের।

তিনি বলেন, তার কাজিনদের মতো তারও মিশরে ট্যাক্সি চালক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ইতিহাসের এক দুর্ঘটনায় তার বাবা যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েটে অভিবাসী হয়ে আসেন এবং তিনি আমেরিকান হিসেবে পরিচিতি পান।

তাঁর নির্বাচনী প্রচারণার অন্যতম প্রধান বক্তব্য ছিলরাজনীতি থেকে অর্থ সরিয়ে মানুষের পকেটে ফিরিয়ে দেওয়া এবং সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ ভোটারদেরও আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেন তিনি। আগামী নভেম্বরে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেটর পদের নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের মুখোমুখি হবেন এল সাইদ। মাইক রজার্সকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একচল্লিশ বছর বয়সী আবদুল এল সাইদকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বহিরাগত বলা হলেও মূলধারার রাজনীতিতে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ শুরু হয় ২০১৮ সালে মিশিগানের গভর্নর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। সেবার তিনি পরাজিত হলেও মোট ভোটের ৩০ শতাংশের বেশি পেয়েছিলেন। ধারণা করা হয়, রাজনীতিতে আসার প্রাথমিক অনুপ্রেরণা তিনি পেয়েছিলেন ২০০৭ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের সঙ্গে সাক্ষাতের পর। ওই বছরের এপ্রিলে মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিল ক্লিনটন। সেখানে শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী হিসেবে বক্তব্য দেন আবদুল এল সাইদ। তার বক্তব্যের প্রশংসা করেন ক্লিনটন।

২০১৫ সালে মাত্র ৩০ বছর বয়সে ডেট্রয়েটের জনস্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক হন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বড় শহরে এমন পদে দায়িত্ব নেওয়া সবচেয়ে কম বয়সী ব্যক্তিদের একজন ছিলেন এল সাইদ। দায়িত্ব পালনের সময় শিশু মৃত্যুহার কমানো, শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে চশমা দেওয়া এবং শতাধিক স্কুলে সীসার মাত্রা পরীক্ষা করার মতো বেশ কিছু উদ্যোগ নেন তিনি।

চলতি বছরের এপ্রিলে মিশিগানের প্রাথমিক নির্বাচনে প্রার্থিতা ঘোষণার পর আবারও আলোচনায় আসেন এল সাইদ। প্রচারণায় নিজেকে করপোরেট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো একজন শ্রমজীবী নেতা হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে ইসরায়েলপন্থী অর্থদাতা ও দলীয় রাজনীতির প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও সোচ্চার হন। তার এমন অবস্থানের কারণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাকে ইহুদিবিদ্বেষী হিসেবে আক্রমণ করেন।

মিশিগানের ডেমোক্র্যাটদের মনোনয়ন জয়ের পর ট্রাম্প বলেন, এল সাইদ ইহুদিদের ভালোবাসেন না এবং ইসরায়েলকে ঘৃণা করেন। তবে এ ধরনের সমালোচনার জবাব দিয়েছেন এল সাইদ। মিশিগানের ইহুদি ভোটারদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছেন, তিনি তাদের ঠিক ততটাই নিরাপত্তা দিতে চান, যতটা নিরাপত্তা তিনি তার দুই মেয়ের জন্য চান। অন্যদিকে এল সাইদ ইসরায়েল, মিশর, সৌদি আরব, পাকিস্তান, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারসহ বিভিন্ন দেশের সেনাবাহিনীকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নের বিরোধিতা করেছেন। ইসরায়েল ইস্যুর পাশাপাশি ট্রাম্পের নীতির সমালোচনাও এল সাইদকে ভোটারদের কাছে জনপ্রিয় করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আবদুল এল সাইদের সম্ভাব্য বিজয় শুধু মিশিগান নয়, যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক রাজনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আগামী নভেম্বরে সিনেট নির্বাচনে এল সাইদ জয়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার নজির গড়বেন তিনি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধখুলশীতে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) মাহফিল ও র‌্যালি
পরবর্তী নিবন্ধশরতের ফুলের হাসি