আদালত পাড়ায় ভাঙচুরে আলিফের ভাইয়ের মামলার তদন্তভার পিবিআইয়ে

আজাদী প্রতিবেদন | বৃহস্পতিবার , ১৪ মে, ২০২৬ at ১০:৪৩ পূর্বাহ্ণ

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় দাশের জামিন নামঞ্জুরকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম আদালত পাড়ায় হামলাভাঙচুরের একটি মামলার তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) থেকে সরিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। গতকাল চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বকর সিদ্দিকের আদালত বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।

বাদীর আইনজীবী মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী দৈনিক আজাদীকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আদালত পাড়ায় নজিরবিহীন তাণ্ডব, সহিংসতার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত করছিল ডিবি পুলিশ। তবে এখন পর্যন্ত তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়া এবং তদন্ত কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষের প্রেক্ষিতে তদন্ত সংস্থা পরিবর্তনের আবেদনটি করেন মামলার বাদী। তিনি বলেন, আজকে (গতকাল) তদন্তকারী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে বাদীর আবেদনটির উপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। একপর্যায়ে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন এবং অধিকতর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে পিবিআইকে তদন্তভার গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। আইনজীবী বলেন, শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি উত্তর বিভাগের সহকারী কমিশনার মো. মোস্তফা কামাল। তবে মামলার অগ্রগতি বিষয়ে আদালতের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তিনি সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেন নি। নগরীর নিউ মার্কেট মোড়ে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর চিন্ময় দাশের বিরুদ্ধে নগরীর কোতোয়ালী থানায় একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হয়। এ মামলায় একই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকা থেকে চিন্ময়কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ২৬ নভেম্বর তাকে চট্টগ্রামের আদালতে হাজির করা হয়। তখন তার পক্ষের আইনজীবীরা তার জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শরীফুল ইসলাম জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পুলিশ চিন্ময়কে প্রিজন ভ্যানে করে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার সময় আদালত প্রাঙ্গণে জড়ো হওয়া তার অনুসারীরা ভ্যানের গতিরোধ করেন এবং প্রিজন ভ্যানের সামনেপেছনে শুয়ে পড়েন। আড়াই ঘণ্টা পর লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিয়ে চিন্ময়কে বহনকারী প্রিজন ভ্যানকে কারাগারে নেওয়া হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা আদালত পাড়ায় ব্যাপক হামলা, ভাঙচুর করে। শুরু হয় সংঘাত। এর মধ্যে আদালতের প্রবেশ গেটের অদূরে মেথরপট্টি এলাকায় খুন হন আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ। এসব ঘটনায়মোট সাতটি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে নগরীর কোতোয়ালী থানায় ৬টি ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের হয়।

আদালতসূত্র জানায়, কোতোয়ালী থানায় দায়ের হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে পুলিশ বাদী হয়ে ৭৯ জনের নামে তিনটি, আলিফের বাবা বাদী হয়ে ৩১ জনের নামে একটি (হত্যা মামলা) ও তার ভাই খানে আলম বাদী হয়ে আদালত পাড়ায় হামলাভাঙচুরের অভিযোগে ১১৬ জনের নামে একটি ও মোহাম্মদ উল্লাহ নামে এক ব্যবসায়ী ২৯ জনের নামে একটি মামলা দায়ের করেন। এছাড়া মো. এনামুল হক নামে একজন বাদী হয়ে ১৬৪ জনের নামে আদালতে আরেকটি মামলা করেন। আদালত সেটি কোতোয়ালী থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। আইনজীবী আলিফের ভাই খানে আলমের দায়ের করা মামলাটিরই তদন্তভার গতকাল ডিবি পুলিশ থেকে সরিয়ে পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

পূর্ববর্তী নিবন্ধঈদ যাত্রা : আন্তঃজেলা বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু
পরবর্তী নিবন্ধ৯৪ কোটি টাকার সোনা চুরির অভিযোগে বিক্রয় প্রতিনিধি গ্রেপ্তার