আইভরি কোস্টকে হারিয়ে নকআউট পর্বে জার্মানী

স্পোর্টস ডেস্ক | সোমবার , ২২ জুন, ২০২৬ at ১০:৪৯ পূর্বাহ্ণ

আইভরি কোস্টের সাথে নাটকীয় ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও ২১ গোলের জয়ের মাধ্যমে ২০১৪ সালের পর প্রথমবারের মত নক আউট পর্ব নিশ্চিত করেছে জার্মানী। বদলী খেলোয়াড় ডেনিজ উনদাভ ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন। এর মধ্যে একটি ছিল ইনজুরি টাইমের চতুর্থ মিনিটে। যে গোলেই জার্মানীর জয় নিশ্চিত হয়। ২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের পর গত দুই আসরে গ্রুপ পর্বের বাঁধা পেরুতে পারেনি জার্মানী। কোচ জুলিয়ান নাগলেসম্যান যে কারনে এবারের আসরের আগ থেকেই দারুণ চাপে ছিলেন। উনদাভের দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেছেন ইকুয়েডরের বিপক্ষে পরের ম্যাচে মূল দলে তার খেলা নিশ্চিত। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এটা তার জন্য অত্যন্ত আনন্দের। এর থেকে ভাল ফিনিশ আর হতে পারে না।’ ৩০ মিনিটে ফ্র্যাংক কেসির গোলে আইভরিয়ানরা এগিয়ে গিয়েছিল। টিনএজ প্রতিভা ইয়ান ডায়মন্ডের দারুণ এক এ্যাসিস্টে কেসি পোস্টের খুব কাছে থেকে বল জালে জড়ান। ইতোমধ্যেই লিভারপুলসহ বেশ কিছু ইউরোপীয়ান শীর্ষ ক্লাবের নজড়ে পড়েছেন ডায়মন্ড। প্রথমার্ধে এক গোলে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় জার্মানী। প্রথমার্ধে দুইবার বল জালে জড়িয়েছিল জার্মানরা। ২১ মিনিটে ন্যাথানিয়ের ব্রাউনের কর্ণার থেকে আলেক্সান্দার পাভলোভিচ গোল করলেও প্যারাগুইয়ান রেফারি হুয়ান গ্যাব্রিয়েল বেনিটেজ তা নাকচ করে দেন। আইভরি কোস্টের গোলরক্ষক ইয়াহিয়া ফোফানাকে ফাউলের অপরাধে পাভলোভিচের গোল বাতিল করেন। এরপর ৩৮ মিনিটে জার্মান ফরোয়ার্ড ও আর্সেনাল তারকা কেই হাভার্টজ বল জালে জড়ান। কিন্তু এবার বায়ার্ন মিউনিখের জামাল মুসিয়ালার ফাউলে গোলটি বাতিল হয়। দ্বিতীয়ার্ধে অনেকটাই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় নাগলেনম্যানের দল। ৬৮ মিনিট পর্যন্ত প্রতিরোধ গড়তে পেরেছিল আইভরিয়ান রক্ষনভাগ। নাদিয়ের আমিরির ক্রস থেকে উনদাভের ভলি আর আটকাতে পারেনি আইভরিয়ান গোলরক্ষক।

এরপর ইনজুরি টাইমে ফেলিক্স নেমেচার এ্যাসিস্টে দ্বিতীয় গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন উনদাভ। শেষ বাঁশি বাজতেই স্বস্তি আসে জার্মান শিবিরে। বিরতিতে পিছিয়ে থাকা দলটি বদলিদের প্রভাবে ম্যাচ ঘুরিয়ে জয় তুলে নেয়। আর এই জয়ে নকআউট পর্বও নিশ্চিত হলো জার্মানির। অন্যদিকে ঐতিহাসিক জয়ের খুব কাছ থেকে ফিরতে হলো আইভরি কোস্টকে। প্রথমার্ধে দারুণ রক্ষণ, দ্রুত পাল্টা আক্রমণ আর কেসিয়ের গোলে অঘটনের স্বপ্ন দেখেছিল তারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত উনডাভের জোড়া গোলেই ভেঙে গেল সেই স্বপ্ন। কখনই বিশ্বকাপের নক আউট পর্বে উঠতে না পারা আইভরি কোস্টের অবশ্য এখনও সুযোগ শেষ হয়ে যায়নি। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে কুরাসাওকে হারাতে পারলে তাদের পরের রাউন্ডে যাবার সম্ভাবনা তৈরী হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধইকুয়েডরকে হতাশ করে বিশ্বকাপে কুরাসাওয়ের প্রথম পয়েন্ট
পরবর্তী নিবন্ধবিশ্বকাপের হাজারতম ম্যাচে তিউনিশিয়াকে হারালো জাপান