অস্থির বাজারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে হবে

| রবিবার , ২ আগস্ট, ২০২৬ at ৭:০৩ পূর্বাহ্ণ

টানা বৃষ্টি ও বিভিন্ন অঞ্চলের বন্যার প্রভাব পড়েছে দেশের কাঁচাবাজারে। ফলে কিছুদিন ধরেই নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিশেষ করে কাঁচা মরিচ। মাঝে কিছুদিন কমার পর কাঁচা মরিচের দাম বেড়ে আবার কেজি ৪শ টাকায় পৌঁছেছে। এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে পেঁয়াজ। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এ ছাড়া এক মাসের ব্যবধানে আটার দাম বেড়েছে বলে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বলা যায়, সবজি, মাছ, ডিম, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচসহ নানা নিত্যপণ্যের দাম অল্প সময়ের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর ফলে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন নিম্ন ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ। বিশ্লেকরা বলেন, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে বড়ো বিপাকে পড়েছে মধ্যবিত্তশ্রেণী। আয়ের সাথে ব্যয়ের ব্যবধানে দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় সংসার চালাতে নাভিশ্বাস উঠেছে অধিকাংশের। অন্যদিকে নিম্নবিত্তের খাবারের প্লেট থেকে উধাও হয়ে যাচ্ছে সবজি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণভাবে দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধি বা হ্রাস পাওয়ার বিষয়টি নির্ভর করে বাজারে পণ্যের চাহিদা ও সরবরাহের ওপর। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকলে পণ্যের দাম বাড়তেই পারে। কিন্তু আমাদের দেশে এ নিয়ম খাটছে না। দেখা যায়, পণ্যের পর্যাপ্ত আমদানি ও সরবরাহ থাকলেও তা বেশি দামে বিক্রি হয়। দ্রব্যমূল্যের এই অযৌক্তিক বৃদ্ধির পেছনে কাজ করে বাজার সিন্ডিকেট বা চক্র। তারা যোগসাজশের মাধ্যমে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। কখনো কখনো তারা পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে। নানা অজুহাত তুলেও বাড়ানো হয় পণ্যের দাম। এ অবস্থায় বেশি দামে পণ্য ক্রয় করা ছাড়া ভোক্তাদের কোনো উপায় থাকে না। কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন পত্রিকান্তরে বলেছেন, উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার বাস্তবতার চেয়ে বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, মধ্যস্বত্বভোগীদের আধিপত্য এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মুনাফা বাড়ানোর প্রবণতাই নিত্যপণ্যের দামের ওপর বড় প্রভাব ফেলছে। তাই ভোক্তার স্বার্থ রক্ষায় কঠোরভাবে বাজার তদারকি করতে হবে। কোনো পণ্যের দাম কেন বাড়ছে তা খতিয়ে দেখতে হবে।

তাই তাঁদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলতে পারি, এভাবে দ্রব্যমূল্য, বিশেষত নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি করা অপরাধ বটে। এজন্য সংশ্লিষ্ট অসাধু ব্যবসায়ীদের শাস্তি হওয়া উচিত; কিন্তু আমাদের দেশে এ ধরনের ঘটনা বিরল। ফলে কারসাজি করে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের এ প্রবণতা প্রতিরোধ করার দায়িত্ব সরকারের। সরকারের পক্ষ থেকে সবসময় অসাধু ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়, কিন্তু কে শোনে কার কথা। অসাধু ব্যবসায়ীরা কায়েমি স্বার্থে ইচ্ছেমতো নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চালালে সরকার যেন হাত গুটিয়ে বসে না থাকে, সেই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের। আমরাও চাই, বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করুক।

জনসাধারণ চায়, নিত্যপণ্যের বাজার তাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকুক। তারা মনে করে পণ্যমূল্য কমাতে চাঁদাবাজি বা সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণই নয়, সেই সঙ্গে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক রাখতে হবে। কোন পণ্য কখন আমদানি করতে হবে এসব বিষয়ও আগেই ভাবতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা আরো বলেন, নিত্যপণ্যের বাজারের অস্থিরতা কমাতে স্বল্পমেয়াদে উৎপাদন এলাকা থেকে বাজারে পণ্য পরিবহন নির্বিঘ্ন রাখতে প্রশাসনিক সমন্বয় জোরদার করতে হবে। যেসব এলাকায় বন্যার কারণে সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে, সেখানে বিকল্প পরিবহন ও দ্রুত সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। পাইকারি ও খুচরা বাজারে নিয়মিত মূল্য ও মজুদ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে অস্বাভাবিক দাম বাড়ার কারণ প্রকাশ্যে তুলে ধরতে হবে। মধ্যমেয়াদে কৃষিপণ্যের সংরক্ষণব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে। উৎপাদক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত সরবরাহ শৃঙ্খলের অপ্রয়োজনীয় স্তর কমানোর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। দীর্ঘমেয়াদে জলবায়ুজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় কৃষি উৎপাদন, পরিবহন ও বাজার ব্যবস্থাপনাকে সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় আনতে হবে। মৌসুমি দুর্যোগ নিত্যপণ্যের বাজারকে যেন অস্থির করে তুলতে না পারে সে জন্য এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ৭৮৬
পরবর্তী নিবন্ধএই দিনে