অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান : ভাষাবিজ্ঞানী, গবেষক ও শিক্ষক

| শুক্রবার , ২৮ আগস্ট, ২০২৬ at ৫:৫৭ পূর্বাহ্ণ

অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান (১৯৪০২০২৪)। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট ভাষাবিজ্ঞানী, গবেষক, শিক্ষক, সাহিত্যিক ও লোকসংস্কৃতিগবেষক। তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ও একুশে পদক প্রাপ্ত একজন ব্যক্তিত্ব। তিনি ১৯৪০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের চব্বিশ পরগনা জেলার অন্তর্গত ঝিনাইদহে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস নরসিংদীর রায়পুরার আদিয়াবাদে। তার পিতার নাম মো. নাদিরুজ্জামান, মাতা মরহুমা মোসাম্মৎ ফরিদান্নেছা। তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা নৈহাটি, কলকাতাসহ বিভিন্ন প্রদেশে চলে এবং ১৯৪৭ সালের দেশভাগের সময় পৈতৃক গ্রাম আদিয়াবাদে এসে গ্রামের স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা সাহিত্য অধ্যয়ন করেন। ১৯৬০ সালে বাংলা সাহিত্যে স্নাতক (সম্মান) এবং ১৯৬১ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে ভারতের মহীশূর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভাষাবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। অধ্যাপক মনিরুজ্জামানের কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন এবং সাংবাদিকতা বিভাগের সঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও একাডেমিক দাযয়িত্বে যুক্ত ছিলেন। তিনি নজরুল ইনস্টিটিউটের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। বাংলা ভাষা, সাহিত্য, ভাষাবিজ্ঞান ও লোকসংস্কৃতি নিয়ে তাঁর গবেষণা ছিল বিস্তৃত ও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় রচিত ত্রিশের অধিক গ্রন্থ এবং গবেষণাভিত্তিক রচনাসহ প্রায় ৩৫টি বই প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর লেখালেখির সূচনা ঘটে ১৯৫৪ সালে কবিতা প্রকাশের মাধ্যমে। সাহিত্য ও গবেষণায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০১৫ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। ভাষা ও সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য ২০২৩ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে একুশে পদক প্রদান করে। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের গবেষণা, ভাষাতাত্ত্বিক অনুসন্ধান এবং লোকঐতিহ্য চর্চায় তাঁর অবদান বাংলাদেশের জ্ঞানচর্চার ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর কর্ম ও গবেষণা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষক, গবেষক ও সাহিত্যপ্রেমীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তিনি ২৭ আগস্ট ২০২৪ তারিখে ঢাকায় ইন্তেকাল করেন, মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল প্রায় ৮৪ বছর। গতকাল ছিলো তাঁর ২য় মৃত্যুবার্ষিকী। আমরা তাঁকে বিনম্রচিত্তে স্মরণ করছি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধএই দিনে
পরবর্তী নিবন্ধবারইয়ারহাটে ফ্লাইওভার চাই