হাইতির বিপক্ষে দুইবার পিছিয়ে পড়েও শেষ মুহূর্তের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ৪–২ ব্যবধানের জয় তুলে নিয়েছে মরক্কো। এই রোমাঞ্চকর জয়ের ফলে ব্রাজিলের গ্রুপ (গ্রুপ ‘সি’) থেকে রানার্স–আপ হয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ৩২ বা নকআউট পর্ব নিশ্চিত করল আফ্রিকান সিংহরা। মায়ামিতে অন্য ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের ৩–০ ব্যবধানের দাপুটে জয় গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াইয়ে কোনো নাটকীয়তা জমতে দেয়নি। ফলে মরক্কোর সামনেও গ্রুপ সেরা হওয়ার বড় কোনো সুযোগ ছিল না। আটলান্টার মাঠে ইতিমধ্যে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়া হাইতির বিরুদ্ধে লিড নিতে মরক্কোকে ম্যাচের ৮০ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। তবে শেষ ২০ মিনিটে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার মূল নায়ক ছিলেন বদলি ফরোয়ার্ড সুফিয়ান রাহিমি। দ্বিতীয়ার্ধের ২৫ মিনিটে (৭০ মিনিটে) মাঠে নেমে ১টি গোল এবং ১টি অ্যাসিস্ট করে মরক্কোর জয় নিশ্চিত করেন তিনি। গ্রুপ পর্বে অপরাজিত থেকে ৭ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় হওয়া গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো এখন নকআউট পর্বে মুখোমুখি হবে গ্রুপ ‘এফ’–এর চ্যাম্পিয়ন দলের। ক্যারিবীয় দেশ হাইতির বিপক্ষে মরক্কো আরও অনেক ভালো খেলবে বলেই আশা করেছিলেন সমর্থকেরা। ম্যাচের সিংহভাগ সময়জুড়ে মাঠে আসল নায়ক ছিলেন হাইতিয়ান গোলরক্ষক জনি প্লাসিড, যিনি পুরো ম্যাচে মরক্কোর নিশ্চিত ৭টি গোল রুখে দেন। ম্যাচের ৯ মিনিটে ডান দিক থেকে ডুভার্নের ক্রসে লেনি জোসেফের ব্যাকহিল ফিনিশ মরক্কোর জালে জড়ায়। বলটি মরক্কোর গোলরক্ষক বোনোর গায়ে লেগে ভেতরে ঢোকায় ফিফা এটিকে বোনোর আত্মঘাতী গোল হিসেবে ঘোষণা করে, যা ছিল চলতি বিশ্বকাপে হাইতির প্রথম গোল। ৩৯ মিনিটে মরক্কোকে সমতায় ফেরান আশরাফ হাকিমি। বাম প্রান্ত থেকে এল খানৌসের দুর্দান্ত শট হাইতিয়ান ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে গোলরক্ষক প্লাসিডকে বিভ্রান্ত করলে, সুযোগ বুঝে রাইট–ব্যাক হাকিমি বল জালে জড়ান। বিশ্বকাপে এটি তার প্রথম গোল। তবে ৪৩ মিনিটে মরক্কোর একটি আক্রমণ নসাৎ করে দিয়ে পাল্টা আক্রমণে উল্টো ব্যবধান ২–১ করেন হাইতির উইলসন ইসিদোর।
বক্সের সামনে বল পেয়ে ডান কোনা দিয়ে বোনোকে পরাস্ত করে বিশ্বকাপের অন্যতম দর্শনীয় এক গোল করেন এই স্ট্রাইকার। প্রথমার্ধের নাটকীয়তার তখনও বাকি ছিল। যোগ করা সময়ে হাকিমির চমৎকার লো–ক্রস থেকে দারুণ এক ভলিতে মরক্কোকে ফের সমতায় (২–২) ফেরান সাইবারি। এটি চলতি বিশ্বকাপে তিন ম্যাচে তার তৃতীয় গোল। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে সুফিয়ান রাহিমির জাদুতে আরও দুই গোল করে ৪–২ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মরক্কো।












