৫০ শয্যার হাসপাতালে ভর্তি ১০৫ রোগী, মেঝে-বারান্দায় চিকিৎসা

বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছাদের আস্তরণ খসে পড়ায় আতঙ্ক, শূন্যপদ ৫৪

কল্যাণ বড়ুয়া, বাঁশখালী | শনিবার , ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ

বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০ শয্যার বিপরীতে বর্তমানে ১০৫ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। অতিরিক্ত রোগীর চাপে শয্যা সংকট দেখা দেওয়ায় অনেক রোগীকে বারান্দা ও মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। এর মধ্যে হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ছাদের আস্তরণ খসে পড়ায় আতঙ্কে রয়েছেন রোগী ও স্বজনরা। পাশাপাশি সংকট রয়েছে ডাক্তার, নার্স ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে সরেজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, ভর্তি রোগীদের পাশাপাশি জরুরি বিভাগেও রোগীর চাপ রয়েছে। শয্যা সংকটের কারণে অর্ধশতাধিক রোগীকে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু রোগীর সংখ্যা বেশি। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এসব রোগীর মধ্যে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী রয়েছেন।

রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, অতিরিক্ত রোগীর চাপের পাশাপাশি প্রয়োজনের তুলনায় ওষুধের স্বল্পতা এবং চিকিৎসক–নার্সসহ জনবল সংকট রয়েছে। ফলে রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। এর সঙ্গে হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ছাদের আস্তরণ খসে পড়ায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে বাড়তি আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

এক শিশু রোগীর মা বলেন, ডায়রিয়ার কারণে মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। কিন্তু সিট না পাওয়ায় মেঝেতে রেখে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। ফ্যান না থাকায় রাতে কয়েল ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা শিশুর জন্য আরও ক্ষতিকর।

রোগীর স্বজন আবুল কালাম বলেন, বারান্দায় রোগী রেখে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। সব সময় ভয় হয়, কখন ওপরের ছাদের আস্তরণ ভেঙে পড়ে। এছাড়া রোগীদের অধিকাংশ ওষুধ বাইরে থেকে কিনে আনতে হয়। শিশু কন্যাকে নিয়ে হাসপাতালে আসা সালমা বেগম বলেন, এত বেশি রোগী ও স্বজনের কান্নাকাটি ও শব্দে শিশুদের ঘুমাতে সমস্যা হচ্ছে। রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় চিকিৎসক–নার্সরাও পর্যাপ্ত সেবা দিতে পারছেন না।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচজন কনসালটেন্ট ও ১৫ জন মেডিকেল অফিসার কর্মরত আছেন। এর মধ্যে নয়জন মেডিকেল অফিসার ও দুজন কনসালটেন্ট বিভিন্ন স্থানে সংযুক্তিতে রয়েছেন। তিনজন মেডিকেল অফিসার দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত। এছাড়া সিনিয়র স্টাফ নার্স, মিডওয়াইফ, এসএসিএমও, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, এমএলএসএস, ওয়ার্ডবয়, কুক–মশালচি ও মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীসহ বিভিন্ন পদে মোট ৫৪টি পদ শূন্য রয়েছে।

হাসপাতাল সূত্র আরও জানায়, প্রতিদিনই রোগীর চাপ বাড়ছে। ফলে ৫০ শয্যার হাসপাতালটি দ্রুত ১০০ শয্যায় উন্নীত করার দাবি রয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ, প্রশাসনিক অনুমোদন এবং চিকিৎসক, নার্সসহ অন্যান্য জনবল নিয়োগ জরুরি হয়ে পড়েছে।

এছাড়া হাসপাতালের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ, অভ্যন্তরীণ সড়ক সংস্কার, আবাসিক ভবনগুলোর সংস্কার ও মেরামত, রোগীদের জন্য নিজস্ব অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন এবং পর্যাপ্ত সরকারি ওষুধ ও ল্যাবরেটরি সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দের দাবি রয়েছে। রোগীদের অস্ত্রোপচার কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে নতুন ডায়াথার্মি মেশিন সরবরাহের প্রয়োজন রয়েছে বলেও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মুমিনুল হক বলেন, ডাক্তার, নার্স ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংকট প্রবল। এক্স–রে টেকনোলজিস্ট না থাকায় কয়েক মাস ধরে এক্স–রে কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। প্রায় ৮ লাখ মানুষের এই উপজেলায় এটি একমাত্র সরকারি হাসপাতাল। প্রতিদিন শয্যার বিপরীতে প্রায় দ্বিগুণ রোগীকে সেবা দিতে গিয়ে সবাইকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, রোগীর তুলনায় পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ না থাকায় সব রোগীকে যথাযথ ওষুধ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। হাসপাতালে সেবার মান বাড়াতে প্রয়োজনীয় জনবল, ওষুধ ও যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা জরুরি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধরামগড়ে বন্ধ থাকার দুই দশক পর আবাসিক বিদ্যালয় চালুর উদ্যোগ
পরবর্তী নিবন্ধসক্ষমদের দখলে আশ্রয়ণের ঘর কোথাও তালা, কোথাও ভাড়া