২৩ বছর পর দুইজনের মৃত্যুদণ্ড তিন জনের যাবজ্জীবন

আগ্রাবাদে যুবককে গলা কেটে খুন

আজাদী প্রতিবেদন | শুক্রবার , ১৫ মে, ২০২৬ at ৯:২৪ পূর্বাহ্ণ

নগরীর ডবলমুরিংয় থানাধীন আগ্রাবাদের বাদামতলী এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক যুবককে গলা কেটে খুনের দায়ে ২ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। সেই সাথে মামলার অপর তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা ও অনাদায়ে আরো ১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গতকাল চট্টগ্রামের ৬ষ্ট মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্‌কাসের আদালত এ রায় ঘোষণা করেছেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২ আসামি হলেনজামাল উদ্দিন ও মো. এরশাদ। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেনমো. মনির হোসেন, মো. আলমগীর ও মো. রাশেদ।

রায় ঘোষণার সময় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এরশাদ ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আলমগীর ও রাশেদ কাঠগড়ায় হাজির ছিলেন। বাকী তিনজন পলাতক রয়েছেন। এজন্য তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা ইস্যু করা হয়েছে। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রাকিব দৈনিক আজাদীকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

আদালত সূত্র জানায়, ২০০৩ সালের ৬ জানুয়ারি ৩২ বছর বয়সী ইদু মিয়াকে গলা কেটে খুনের ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় তার ভাই ও মাছ ব্যবসায়ী মো. কামাল বাদী হয়ে ডবলমুরিং থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, তাদের বোনকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল জামাল উদ্দিন। পাশাপাশি তাদের বাড়িতে আড্ডা জমানোর চেষ্টাও করা হয়। এতে ইদু মিয়া বাধা দেন এবং তাদের বাড়িতে না আসার জন্য তাকে নিষেধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ইদু মিয়াকে হুমকি দিয়েছিলেন জামাল উদ্দিন উল্লেখ করে এজাহারে বলা হয়, ইদু মিয়া বহদ্দারহাটে মাছের আড়তে চাকরি করতেন। কাজ শেষে প্রতিদিন বাসায় ফিরলেও ২০০৩ সালের ৬ জানুয়ারি ইদু মিয়া বাসায় ফেরেননি। এ জন্য সম্ভাব্য সব জায়গায় তার খোঁজ করা হয়। কিন্তু কোথায়ও তাকে পাওয়া যায়নি। একদিন পর ৮ জানুয়ারি লোকজনের কাছ থেকে খবর আসে যে, ডবলমুরিং থানাধীন শেখ মুজিব রোডের বাদামতলী বিসিক ভবনের উত্তর পাশের মধুবন মিষ্টির দোকানের পেছনের পুরাতন কবরস্থানে একটি গলা কাটা লাশ পড়ে আছে। ওই খবরের ভিত্তিতে সেখানে গিয়ে দেখা যায়লাশটি ইদু মিয়ার। লাশের শরীরে কোনো কাপড় ছিল না। মামলার এজাহারে আরো বলা হয়, জামাল উদ্দিনসহ তার সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে ইদু মিয়াকে গলা কেটে নৃশংসভাবে খুন করেছে।

আদালত সূত্র আরো জানায়, মামলাটি তদন্ত শেষে তদন্ত কর্মকর্তা চার্জশিট দাখিল করলে ২০০৬ সালের ১২ নভেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন বিচারক।

পূর্ববর্তী নিবন্ধইনুর মামলার যুক্তিতর্ক শেষ, রায় যেকোনো দিন
পরবর্তী নিবন্ধকুতুবদিয়া খাদ্য গুদামের কর্মকর্তা পলাশকে ৮ বছরের কারাদণ্ড