পারিবারিক পরিমণ্ডলে বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে আনন্দঘন পরিবেশে গতকাল শুক্রবার ১১৭তম জন্মদিন উদযাপন করেছেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি ইথেল ক্যাটারহাম। বর্তমানে তিনি ইংল্যান্ডে সারে–তে লাইটওয়াটারের হলমার্ক লেকভিউ কেয়ার হোমে বাস করছেন। ২০২৫ সালের এপ্রিলে ১১৬ বছর বয়সে ব্রাজিলিয়ান নান সিস্টার ইনা কানাবারো লুকাসের মৃত্যুর পর ক্যাটারহাম বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক মানুষের খেতাব পান। টাইটানিক জাহাজডুবির তিন বছর আগে এবং রুশ বিপ্লবের আট বছর আগে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এই নারী। তিনি দুটি বিশ্বযুদ্ধই দেখেছেন। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড অনুযায়ী, ২০২০ সালে ১১০ বছর বয়সে ক্যাটারহাম কোভিড আক্রান্ত হলেও তা সফলভাবে জয় করে বেঁচে থাকা প্রবীণদের একজন তিনি। যুক্তরাজ্যে হ্যাম্পশায়ারের শিপটন বেলিনজার গ্রামে আট ভাইবোনের মধ্যে ৭ নম্বরে থাকা ক্যাটারহাম বেড়ে উঠেছেন উইল্টশায়ারের টিডওয়ার্থে। খবর বিডিনিউজের।
রাজা সপ্তম এডওয়ার্ডের আমলের জীবিত শেষ নাগরিক ক্যাটারহাম ১৯২৭ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে ভারতে গিয়েছিলেন। তিনি একটি সামরিক পরিবারে গৃহকর্মী এবং শিশু যত্নকারী হিসাবে কাজ শুরু করেন। পরে ১৯৩১ সালে যুক্তরাজ্যে এক নৈশভোজে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল নরম্যানের সঙ্গে তার দেখা হয় এবং তারা বিয়ে করেন। এরপর তারা হংকংয়ে ছিলেন। সেখানে তারা একটি নার্সারি স্কুল খুলেছিলেন। তাদের দুই কন্যাসন্তান থাকলেও দুজনেই মায়ের আগেই মারা গেছেন। ১৯৭৬ সালে ক্যাটারহামের স্বামী নরম্যানও মারা যান। ক্যাটারহামের বোন গ্ল্যাডিসও ১০৪ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকা এক প্রবীণ ছিলেন। ৯৭ বছর বয়স পর্যন্ত নিজে গাড়ি চালানো ক্যাটারহামকে গত বছর সেপ্টেম্বরে তার ১১৬তম জন্মদিনের পর দেখতে গিয়েছিলেন যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লস। রাজার সঙ্গে সাক্ষাৎকালে ১৯৬৯ সালে ওয়েলসের যুবরাজ হিসেবে চার্লসের রাজ্যাভিষেকের স্মৃতি স্মরণ করে ক্যাটারহাম রসিকতা করে বলেছিলেন, তখন সব মেয়েরাই আপনার প্রেমে পড়েছিল এবং আপনাকে বিয়ে করতে চেয়েছিল।












