দেশের কোনো হাসপাতাল থেকে হাম বা হাম–উপসর্গের রোগীকে অন্যত্র ফেরত না পাঠাতে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। রোগীর চাপ সামলাতে সরকারি হাসপাতালগুলোতে শয্যা বাড়ানোরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত ওই আদেশে দেশের সব সরকারি হাসপাতালকে তাৎক্ষণিকভাবে নির্দেশনা বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। খবর বিডিনিউজের।
জরুরি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, হাসপাতালে শয্যা খালি না থাকলেও রোগী ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে অতিরিক্ত শয্যার ব্যবস্থা করতে হবে। তবে কেবল জটিল ও উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে রোগীকে রেফার করা যাবে। সেক্ষেত্রে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিশেষায়িত হাসপাতালের নির্ধারিত রেফারাল চেইন কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। এ নিয়ম লঙ্ঘন হলে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের প্রধানকে দায় নিতে হবে। গত কয়েক মাসে দেশে হাম রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় হাসপাতালগুলোতে চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রোগীদের সেবা নিশ্চিত করতেই এমন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। দেশে গত একদিনে হাম আক্রান্ত হয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও চার শিশু। সারাদেশে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৩৯ জনের। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে ১৯৪ জন মারা গেছে।
একদিনে ৫ শিশুর মৃত্যু : দেশে গত একদিনে হাম আক্রান্ত হয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও চার শিশু। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ছোঁয়াচে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে এবং লক্ষণ নিয়ে এই পাঁচ শিশুর মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ সময়ে নতুন করে ১২৫ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।
হাম সংক্রান্ত নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, সারাদেশে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৩৯ জনের। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঢাকা বিভাগে, ২৫ জন। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১৯৪ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৯০ জন ঢাকা বিভাগে মারা গেছে; আর ৬৬ জন রাজশাহী বিভাগের।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, গেল ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ১৭০ জন হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে; যাদের মধ্যে ৮৪৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৫৫ জন ভর্তি হয়েছে ঢাকার হাসপাতালগুলোতে। আর সবচেয়ে কম সাতজন ভর্তি হয়েছে রংপুরে।














