আগামী ৯ আগস্ট চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত তিনটি উপজেলা হাটহাজারী, ফটিকছড়ি ও বাঁশখালী সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ উপলক্ষে স্থানীয় প্রশাসন, বিএনপি ও অঙ্গ–সংগঠন এবং পুলিশ ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
হাটহাজারী : হাটহাজারীতে আগামী ৯ আগস্ট রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য আগমন ঘিরে উপজেলা প্রশাসন গতকাল মঙ্গলবার এক প্রস্তুতি সভার আয়োজন করে। উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন। সভায় উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাগণ, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও প্রধানমন্ত্রীর হাটহাজারী উপজেলা আগমণের প্রাথমিক তথ্যের বিবরণ তুলে ধরে বলেন, হাটহাজারী সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচিত সাংসদ, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীর দিক–নির্দেশনায় উপজেলা প্রশাসনের প্রত্যেক দপ্তর, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ কাজ করছে। ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। রাস্তাঘাট সংস্কার, পার্বতী মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ যেখানে প্রধানমন্ত্রী সভা করবেন সেখানে মাঠের সংস্কার করে সভা করার উপযোগী করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী রোববার সাড়ে ৩টার দিকে হাটহাজারী বড় মাদ্রাসায় আসবেন। সেখানে তিনি হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আমির আল্লামা শফী হুজুর ও প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব জোনায়েদ বাবুনগরীর কবর জিয়ারত করবেন। কবর জিয়ারত শেষে প্রধানমন্ত্রী জেলা পরিষদ ডাক বাংলোয় বিশ্রাম নেবেন। সেখান থেকে বিকেল ৫টার দিকে হাটহাজারী পার্বতী মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপস্থিত হয়ে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করবেন। সেখানে তিনি সর্বসাধারণের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখবেন।
বাঁশখালী : প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের সম্ভাব্য বাঁশখালী সফরকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন ও বাহারছড়া সমুদ্রসৈকতে হেলিপ্যাড নির্মাণ এবং জনসভাস্থল চূড়ান্ত করা হয়েছে। স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিএনপির নেতৃবৃন্দ যৌথভাবে স্থান পরিদর্শন শেষে বাহারছড়া সমুদ্রসৈকতের বেড়িবাঁধসংলগ্ন বালুচরকে সম্ভাব্য জনসভাস্থল হিসেবে নির্ধারণ করেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে বাহারছড়া ইউনিয়নের সমুদ্রসৈকত এলাকায় সম্ভাব্য হেলিপ্যাড, জনসভাস্থল এবং আশপাশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সার্বিক প্রস্তুতি পরিদর্শন করা হয়। এ সময় এসএসএফের মেজর আশিক খানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সফর উপলক্ষে নিরাপত্তা, যাতায়াত ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করে।
এর আগে সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী সম্ভাব্য সফরস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রস্তুতি, নিরাপত্তা এবং সমন্বয় বিষয়ে মতবিনিময় করেন। পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা, বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন, সহকারী পুলিশ সুপার (আনোয়ারা সার্কেল) মাহমুদুল হাসান, বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মাস্টার লোকমান আহমদ, বাঁশখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র কামরুল ইসলাম হোসাইনীসহ ডিজিএফআই, এনএসআই ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য বাঁশখালী সফরকে কেন্দ্র করে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। জনসভায় লাখো মানুষের সমাগমের লক্ষ্য নিয়ে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, উপকূলীয় জনপদের টেকসই উন্নয়ন ও মানুষের জীবন–জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ, মেরিন ড্রাইভ সড়ক বাস্তবায়ন, আঞ্চলিক মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ, বন্যাদুর্গত মানুষের পুনর্বাসন এবং খাল পুনঃখননসহ গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন দাবিগুলো প্রধানমন্ত্রীর সফরে বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে আমরা আশা করছি।
ফটিকছড়ি : আগামী ৯ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ফটিকছড়ি সফরকে কেন্দ্র করে পাইন্দং সিএমবি মাঠের নির্মাণাধীন হেলিপ্যাড ও বাবুনগর মাদ্রাসার ভেন্যু পরিদর্শন করেছে বিভাগীয় কমিশনার ও ডিআইজি। সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ফটিকছড়ির ফেলাগাজী দিঘী এলাকার সিএমবি মাঠে নির্মিত হেলিপ্যাডে অবতরণ করবেন। সেখান থেকে তিনি সড়কপথে আল–জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময় করবেন।
এই সফরকে কেন্দ্র করে গতকাল মঙ্গলবার ফটিকছড়ির সার্বিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখেন চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী। পরিদর্শনকালে ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বিভাগীয় কমিশনার ও ডিআইজিকে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য আগমনস্থল, সিএমবি মাঠের হেলিপ্যাড এবং বাবুনগর মাদ্রাসার সার্বিক প্রস্তুতি ও রূপরেখা সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন।
এ সময় সফরকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠানস্থলের (ভেন্যু) সার্বিক অবকাঠামোগত প্রস্তুতি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, কঠোর নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হয়। পরিদর্শন শেষে বিভাগীয় কমিশনার ও ডিআইজি ভিভিআইপি নিরাপত্তার কোনো কমতি না রাখতে এবং সব ধরনের প্রস্তুতি নিখুঁত ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। পরিদর্শনকালে উপজেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে আসছেন এজন্য আমরা সবাই উচ্ছ্বসিত। সম্প্রতি বন্যায় যে ক্ষতি হয়েছে উনার আগমনে সবার মাঝে একটা প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর। উনাকে বরণ করে নিতে যা যা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দরকার তা নিয়ে আমরা প্রস্তুত। কোনো ধরনের সমস্যা নেই। তিনি বলেন, এখনো আমরা চূড়ান্ত সময়সূচি পাইনি, সেটা হয়তো আরো পর্যালোচনা করে আমাদের কাছে প্রেরণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আমাদের যে কর্মসূচি দিবেন তা আমরা সফলভাবে করে দিবো।












