বিগত ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনে আমাদের নতুন প্রজন্মকে ভুল ইতিহাস গেলানোর চেষ্টা করা হয়েছে, যার শেষ পরিণতি ছিল ৫ আগস্ট হেলিকপ্টারে চড়ে পালিয়ে যাওয়া। কিন্তু ইতিহাস কেউ নতুন কাব্য রচনা করে মুছে দিতে পারে না, ইতিহাস তার নিজস্ব ধারায় এগিয়ে যায়। গতকাল শুক্রবার রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রথম সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এমপি এসব কথা বলেন। শহীদ জিয়ার অবদান ও দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, যখন রাজনৈতিক নেতৃত্ব দিকনির্দেশনা দিতে ব্যর্থ হচ্ছিল, তখন জিয়াউর রহমান বিদ্রোহ করে দেশের দায়িত্ব নিজ কাঁধে নিয়েছিলেন। তিনি সম্মুখ সমরে যুদ্ধ করার পাশাপাশি দেশকে স্বয়ম্ভরতার দিকে নিয়ে গেছেন। দেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি রেমিটেন্স ও তৈরি পোশাক খাতের সূচনাও করেছিলেন তিনি।
এর আগে দুপুরে তিনি সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মোনাজাত ও একটি গাছের চারা রোপণ করেন। সেখানে পৌঁছালে চট্টগ্রাম–৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। পরে মন্ত্রী রাঙ্গুনিয়ায় এতিম ও দুস্থ শিশুদের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শন করে প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সামগ্রী বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ১৯৯৫ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দুস্থ ও এতিমদের মূল স্রোতে ফেরাতে এই কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তবে আমাদের আগামী দিনের লক্ষ্য শুধু একে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে রাখা নয়, এখানে এমন একটি সুন্দর আবহ তৈরি করা হবে যেন শহীদ জিয়ার কর্ম ও সঠিক ইতিহাস আগামী প্রজন্মের কাছে দৃষ্টিনন্দনভাবে ফুটে ওঠে। অদূর ভবিষ্যতে এই স্থানটিকে এমন দৃষ্টিনন্দন রূপ দেওয়া হবে যেন চট্টগ্রামে এয়ারপোর্টে নেমে দেশ–বিদেশের মানুষের প্রথম গন্তব্যই হয় রাঙ্গুনিয়া।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রাঙ্গুনিয়া আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম–৮ আসনের সংসদ সদস্য মো. এরশাদ উল্লাহ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান এবং এতিম ও দুস্থ শিশুদের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উপতত্ত্বাবধায়ক মো. ছানাউল্লাহ। অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে হুমাম কাদের চৌধুরী এমপি বলেন, বিগত স্বৈরাচারী শাসনের ১৭–১৮ বছর আমরা এই ঐতিহাসিক ল্যান্ডমার্কটি নিয়ে কথা বলতে পারিনি। প্রখ্যাত স্থপতিকে সাথে নিয়ে এই স্থানটিকে আন্তর্জাতিক মানের দৃষ্টিনন্দন স্মৃতিসৌধ হিসেবে গড়ে তোলার যে মহাপরিকল্পনা মন্ত্রী নিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে স্থানীয় জনগণ ও প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ এমপি বলেন, স্বৈরাচারী সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত চট্টগ্রামের জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সে‘র নাম পরিবর্তন করে স্বাধীনতা কমপ্লেক্স করেছিল। অবিলম্বে এর নাম পুনর্বহাল করার জন্য আমি মন্ত্রীর প্রতি জোর অনুরোধ জানাচ্ছি। একই সাথে রাঙ্গুনিয়ার এই ঐতিহাসিক স্থানটিকে দৃষ্টিনন্দন করতে বাজেট বরাদ্দের দাবি জানাই।












