চট্টগ্রামে বেসরকারিভাবে গড়ে ওঠা একটি বড় ধরনের ইনল্যান্ড কন্টেনার ডিপোর (আইসিডি) অপারেশন শুরু করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দরের সহায়ক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে ওঠা চিটাগাং কন্টেনার ট্রান্সপোর্টেশন কোম্পানি লিমিটেড (সিসিটিসিএল) গত ২১ অক্টোবর থেকে বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব ইকুইপমেন্ট এবং জনবল দিয়ে পরিচালনা করছে। ডিপোটিকে ব্যবহার উপযোগী করতে প্রায় ১২ একর জায়গায় গড়ে তোলা ডিপোটিকে পুরোপুরি খালি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য সিসিটিসিএলে আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রাখতে চট্টগ্রাম কাস্টমস, বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস এসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ কন্টেনার শিপিং এসোসিয়েশনকে অনুরোধ জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। তবে যেসব আমদানি কিংবা রপ্তানি কন্টেনার বা পণ্য ডিপোতে রয়েছে সেগুলো বন্দর কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় সম্পন্ন করা হবে।
চট্টগ্রামে ইতোমধ্যে ২৩টি বেসরকারি কন্টেনার ডিপো গড়ে উঠেছে। এগুলোর সম্মিলিত স্টোরেজ সক্ষমতা ১ লাখ ১০ হাজার টিইইউএস। বন্দর কর্তৃপক্ষের হাতে যাওয়া সিসিটিসিএলের স্টোরেজ সক্ষমতা ৬ হাজার টিইইউএস। বছরে এই ডিপো গড়ে প্রায় ৪৫ হাজার টিইইউএস আমদানি–রপ্তানি কন্টেনার হ্যান্ডলিং করে।
সূত্র জানায়, বেসরকারি আইসিডিগুলো চট্টগ্রাম বন্দরের সহায়ক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। চট্টগ্রামের ২৩টি বেসরকারি আইসিডিতে রপ্তানি পণ্য স্টাফিং এবং আমদানি পণ্য আনস্টাফিং থেকে শুরু করে জাহাজিকরণ পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। চট্টগ্রাম বন্দরকে ঘিরে গড়ে তোলা এসব আইসিডি প্রতি মাসে ৯৫ হাজার টিইইউএস রপ্তানি পণ্য বোঝাই কন্টেনার, ৫০ হাজার টিইইউএস আমদানি পণ্য বোঝাই কন্টেনার এবং ৬০ হাজার টিইইউএস খালি কন্টেনার হ্যান্ডলিং করে, যা চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমকে সহজ করে তোলার পাশাপাশি দেশের আমদানি–রপ্তানি খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
জানা যায়, চট্টগ্রাম বন্দর স্টেডিয়ামের পাশে প্রায় ১২ একর জায়গায় ২০০৩ সালে চিটাগাং কন্টেনার ট্রান্সপোর্টেশন কোম্পানি লিমিটেডের নামের বেসরকারি আইসিডি গড়ে তোলা হয়। বন্দর থেকে জায়গাটি ইজারা নিয়ে ডিপো তৈরি করেন ব্যবসায়ীরা। ইতোমধ্যে চুক্তির মেয়াদ শেষ এবং বন্দরের নিজস্ব ব্যবহারের জন্য জায়গাটি দরকার হওয়ায় ডিপোটি বন্দর কর্তৃপক্ষ বুঝে নিয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব চট্টগ্রাম কাস্টমস, শিপিং এজেন্টস এসোসিয়েশন এবং কন্টেনার শিপিং এসোসিয়েশনসহ সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি জানিয়ে উক্ত ডিপোতে নতুন আমদানি কন্টেনারের আইজিএম (ইমপোর্ট জেনারেল ম্যানিফেস্ট) প্রদান এবং রপ্তানি কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন। ২৩ অক্টোবর দেওয়া চিঠিতে উক্ত ডিপোর আইজিএম কোড ব্যবহার করে নতুন করে কোনো আমদানি কন্টেনার কিংবা রপ্তানি কার্যক্রম না করার অনুরোধ জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়, গত ২১ অক্টোবর থেকে সিসিটিসিএলের অনুকূলে বরাদ্দ করা ৪৮ হাজার ৪৯৪ বর্গমিটার জায়গা নিজস্ব ব্যবহারের জন্য বুঝে নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে বন্দরের নিজস্ব সরঞ্জাম (ইক্যুইপমেন্ট) ও জনবল দিয়ে ওই ডিপোতে থাকা কন্টেনারগুলোর কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ডিপোটির পরিচালনার দায়িত্ব বন্দর কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করায় সেখানে নতুন আমদানি কন্টেনারের আইজিএম প্রদান এবং রপ্তানি কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে আগে আমদানি করা যেসব কন্টেনার বর্তমানে ডিপোটিতে রয়েছে সেগুলো আমদানিকারকদের কাছে সরবরাহ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। একইভাবে আগে থেকে থাকা রপ্তানি কন্টেনারে পণ্য বোঝাই (কার্গো স্টাফিং) করে জাহাজিকরণের কার্যক্রমও চলবে। ডিপোটিকে ব্যবহার উপযোগী করতে পুরোপুরি খালি করা হবে বলে বন্দর সচিব জানিয়েছেন।












