সিরিজ জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চায় বাংলাদেশ

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে আজ

ক্রীড়া প্রতিবেদক | মঙ্গলবার , ৯ জুন, ২০২৬ at ৬:০৯ পূর্বাহ্ণ

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ জয় দিয়ে শুরু করতে চায় বাংলাদেশ। এ লক্ষ্য নিয়েই মেহেদি হাসান মিরাজরা আজ মঙ্গলবার মাঠে নামছেন। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বেলা ১১টায় শুরু হবে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ। এই সিরিজ দিয়ে দীর্ঘ ১৫ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে ওয়ানডে খেলতে নামছে বাংলাদেশ। ২০১১ সালে সর্বশেষ ঘরের মাঠে অসিদের বিপক্ষে ওয়ানডে ফরম্যাটে খেলেছিল টাইগাররা। তিন ম্যাচের ঐ সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল বাংলাদেশ।

পরিসংখ্যান দেখা যায়, ওয়ানডে ফরম্যাটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভালো করতে পারেনি বাংলাদেশ। ২২ বারের দেখায় মাত্র একবার জয় পেয়েছে টাইগাররা। সেই জয়ও এসেছে ২১ বছর আগে। ২০০৫ সালে ন্যাটওয়েস্ট সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে কার্ডিফে সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুলের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়াকে ৫ উইকেটে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এবার ঘরের মাঠে দুর্দান্ত ফর্মে থাকার সুবাদে আত্মবিশ্বাসের সাথে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলতে নামছে বাংলাদেশ।

গেল ছয় মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে টাইগাররা। সিরিজ জয়ের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম শক্তিশালী দল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণেরও সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি এই সিরিজকে আগামী বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় শুরু হতে যাওয়া ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে দেখছে টাইগাররা।

বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ বলেন, অনেক দিন পর আমরা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটি ওডিআই সিরিজ খেলতে যাচ্ছি। দল হিসেবে আমরা সবাই এই সিরিজ নিয়ে খুব উত্তেজিত এবং অধিনায়ক হিসেবে আমিও খুব উত্তেজিত। আমরা যদি ভালোভাবে শুরু করতে পারি, তবে সেটি দলের জন্য ইতিবাচক হবে। কারণ প্রতিটি ম্যাচই আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, আমাদের পরিকল্পনা খুবই সহজ। ভালো ক্রিকেট খেলা এবং ম্যাচ জেতা।

এই সিরিজের জন্য থাকছে সবুজ উইকেট। যা পেসারদের সহায়তা করবে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বশেষ সিরিজেও পেসাররা সহায়তা পেয়েছিল। ঐ সিরিজের ম্যাচ দেখেছেন বলে জানান অস্ট্রেলিয়ার ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক জশ ইংলিশ। তিনি বলেন, এখানে অনুষ্ঠিত নিউজিল্যান্ড সিরিজ আমরা দেখেছি। উইকেটে ঘাস কিছুটা বেশি ছিল এবং নতুন বল সুইং করছিল। এটিকে স্পিননির্ভর না হয়ে বরং পেসবান্ধব বেশি মনে হয়েছে। আমরা বিষয়টি বিবেচনায় রাখব, তবে আমরা যেকোনো কিছুর জন্য প্রস্তুত।

নিয়মিত অধিনায়ক মিচেল মার্শ ও ট্রাভিস হেডকে ছাড়াই ওয়ানডে সিরিজ খেলতে নামবে অস্ট্রেলিয়া। তাদের অনুপস্থিতি অনুভব করলেও, আগামী বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিতব্য আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপের আগে তরুণ ক্রিকেটারদের পরখ করে নেওয়ার জন্য এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন ইংলিশ। তিনি বলেন, যখনই আপনি মার্শ এবং হেডকে দল থেকে বাদ দেবেন, আপনি কিছু একটা হারাবেন। কারণ তারা খুবই ভালো খেলোয়াড়। কিন্তু কিছু তরুণ খেলোয়াড়ের জন্য এই ধরনের পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞতা অর্জন করাটা গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বিভিন্ন কম্বিনেশন পরখ করে দেখাটা জরুরি।

ঘরের মাঠে খেলার সুবাদে বাংলাদেশের বোলাররা সুবিধাজনক অবস্থায় থাকবে। এমনটাই ভালোই জানেন ইংলিশ। পাশাপাশি নিজ দলের পেসারদের উপরও আস্থা আছে তার। ইংলিশ বলেন, আমাদের দল থেকে কিছু বড় খেলোড়ের নাম বাদ দিলেও, ন্যাথান এলিসজেভিয়ার বার্টলেট এবং বেন ডোয়ারশাইসের মতো খেলোয়াড়রা বেশ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। তারা দারুণ বোলার এবং এই সিরিজে তারা কী করতে পারে সেটি দেখার জন্য আমি উন্মুখ হয়ে আছি।

২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে সর্বশেষ দেখা হয়েছিল বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার। মিডল অর্ডার ব্যাটার মিচেল মার্শের বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে ৩০৭ রানের টার্গেট স্পর্শ করে জয় পায় অসিরা। ১৩২ বলে অনবদ্য ১৭৭ রান করেছিলেন মার্শ। নিজেদের সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচের মধ্যে তিনটিতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে সদ্য পাকিস্তানের মাটিতে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২১ ব্যবধানে হেরেছে অস্ট্রেলিয়া।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামসহ ৪ সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত, বৃষ্টির আভাস
পরবর্তী নিবন্ধমেসি নাকি এমবাপে, কে ভাঙবেন বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোলের রেকর্ড