দখল–দূষণের প্রতিবাদ ও কর্ণফুলী নদী রক্ষার দাবি নিয়ে নগরীর ব্রিজ ঘাটা থেকে নদীর দক্ষিণ পাড়ের চর পাথরঘাটা পর্যন্ত অংশে সাম্পান খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার বিকালে চট্টগ্রাম ইতিহাস সংস্কৃতি গবেষণা কেন্দ্র ও সম্মান মাঝি কল্যাণ সমিতির যৌথ উদ্যোগে ২০তম বছরের মত এই ‘সাম্পান খেলা ও চাঁটগাইয়া সাংস্কৃতিক মেলা’ আয়োজন করা হয়। ‘কর্ণফুলী বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে’–স্লোগানে তিন দিনব্যাপী মেলার আয়োজন করা হয়। মেলার শেষ দিনে গতকাল অনুষ্ঠিত সাম্পান খেলা দেখতে নদীর দুই তীরে কয়েক হাজার মানুষ জড়ো হন। বিকাল ৫টার দিকে ব্রিজ ঘাট অংশ থেকে ১১টি নৌকায় ১১টি দল ‘সাম্পান খেলায়’ অংশগ্রহণ করে। প্রতিটি নৌকায় ৯ জন করে মাঝি ছিলেন।
কর্ণফুলী নদীর উত্তর পাড় থেকে যখন সাম্পানগুলো প্রতিযোগিতা শুরু করে, তখন তীরে বিভিন্ন বয়সী হাজার খানেক মানুষ দাঁড়িয়ে সেই খেলা উপভোগ করছিল। এছাড়া সাম্পানের এই প্রতিযোগিতা উপভোগ করতে ইঞ্জিন চালিত নৌকা নিয়েও অনেকে নদীতে নামেন। এসব নৌকার যাত্রীরা নেচে গেয়ে প্রতিযোগিদের উৎসাহ দিতে থাকেন। নদীর উত্তর পাড় থেকে দক্ষিণ পাড়ের চর পাথরঘাটা এলাকায় পৌঁছাতে ১৫ মিনিটের মত সময় লাগে। এবারের প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছে চর পাথরঘাটার বড় সাম্পান সমিতির মোজাম্মল মাঝির দল, দ্বিতীয় হয়েছে শিকলবাহার ওহিদিয়া কাশেম মাঝির দল এবং তৃতীয় হয়েছে চর পাথরঘাটার রনি মাঝির দল।
উদ্বোধন ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম–১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম এমপি। খেলা শেষে দক্ষিণ পাড়ে চরপাথরঘাটা সিডিএ মাঠে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আব্বাসের সভাপতিত্বে এতে প্রধান বক্তা ছিলেন প্রফেসর মোজাম্মেল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজীব কান্তি রুদ্র, কর্ণফুলী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এস এম মামুন মিয়া, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ওসমান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আল আমিন হোসেন প্রমুখ।
অতিথিরা বলেন, দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে কর্ণফুলীকে সচল রাখতে হবে। সাম্পান খেলা ও চাঁটগাইয়া সাংস্কৃতিক মেলার মাধ্যমে কর্ণফুলীকে বাঁচানোর দাবি জানিয়ে আসা হচ্ছে। তিন দিনব্যাপী মেলা উপলক্ষে চরপাথরঘাটায় গ্রামীণ মেলা বসেছে।













