আগের দিন দারুণ এক সেঞ্চুরি করেছিলেন চট্টগ্রামের মাহমুদুল হাসান জয়। তার ওপেনিং সঙ্গী সাদিকুর রহমান অপেক্ষা নিয়েই দিন শেষ করেছিলেন। তবে রাত পোহানোর পর সেই অপেক্ষা শেষ হতে বেশি সময় লাগেনি, প্রথম আধা ঘণ্টাতেই সেঞ্চুরি পূর্ণ করে ফেলেন চট্টগ্রামের এই ওপেনার। বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জাতীয় লিগের প্রথম রাউন্ডের দ্বিতীয় দিন শেষে স্বাগতিকের সংগ্রহ ছিল বিনা উইকেটে ১৯০ রান। তবে চট্টগ্রামের এই ভেন্যুতে জাতীয় ক্রিকেট লিগের তৃতীয় দিনে রাজশাহীর বিপক্ষে বড় লিড নিতে পারেনি চট্টগ্রাম বিভাগ। সাদিকুর রহমান সেঞ্চুরি করলেও প্রথম দিনের ভালো শুরু ধরে রাখতে পারেনি তাঁর দল। চট্টগ্রামের দুই ওপেনারের সেঞ্চুরির বদৌলতে উদ্বোধনী জুটিতে রান উঠে ১৯৭। ১০২ রানে দিন শুরু করা মাহমুদুল হাসান জয় আউট হয়ে যান আর মাত্র ৩ রান যোগ করেই। রাজশাহীর বাঁহাতি পেসার শফিকুল ইসলামের শিকার হওয়ার আগে ১৭৭ বল খেলে ১০৫ রান সংগ্রহ করতে ৮টি চার এবং ২টি ছক্কা মারেন মাহমুদুল হাসান জয়। ৮৬ রানে শুরু করা ওপেনার সাদিকুর রহমান পেয়ে যান প্রত্যাশিত সেঞ্চুরি। বাঁহাতি ওপেনারের ইনিংস শেষ হয় ১১৫ রানে। ১৫৮ বল খেলে ১২টি চারের সাহায্যে ঐ রানে পৌঁছেন সাদিকুর। জাতীয় লিগে এটা তাঁর দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। আর ২৯ ম্যাচের প্রথম শ্রেণীর ক্যারিয়ারে এটা সাদিকুরের চতুর্থ সেঞ্চুরি। এর সঙ্গে চারটি ফিফটিও আছে তার। তাঁকে ফেরানোর ঠিক পরের বলেই সানজামুল ইসলাম বিদায় করে দেন নতুন ব্যাটসম্যান শাহাদাত হোসেন দীপুকেও। কোন রান করতে পারেননি তিনি। তাসামুল হক ও অধিনায়ক ইরফান শুক্কুর এরপর গড়েন ৭৭ রানের জুটি। ফিফটি ছুঁয়েই আউট হয়ে যান তাসামুল। শামীম হোসেন ভালো কিছুর আভাস দিয়েও থমকে যান ২৬ রানে। এরপর বলতে গেলে একাই লড়েন অধিনায়ক ইরফান। চট্টগ্রাম অধিনায়কের দারুণ ইনিংসটি শেষ হয় ১১৯ বলে ৮৬ রানে। ৫টি চার এবং ১টি ছয় হাঁকান তিনি। তার বিদায়ের পর দলের ইনিংসও ভেঙে পড়ে দ্রুত। এক রানের মধ্যে পতন হয় শেষ চার উইকেটের। লিড মেলে মাত্র ২৯ রানের। হাসান মুরাদ ৬,আশরাফুল হাসান ২ এবং ইফরান হোসেন ১ রান করেন। এনামুল হক কোন রান না করেই ফিরে যান। রাজশাহীর পক্ষে মেহেরব হাসান ৯৪ রান দিয়ে ৪টি উইকেট দখল করে। ২টি করে উইকেট পান সানজামুল ইসলাম এবং নিহাদুজ্জামান। তারা খরচ করেন যথাক্রমে ৯২ এবং ৮৫ রান। ১টি করে উইকেট পান শফিকুল ইসলাম এবং আলী মোহাম্মদ ওয়ালিদ। দ্বিতীয় ইনিংসের বোলিংয়ের শুরুটা অবশ্য ভালো করে চট্টগ্রাম। রাজশাহীর আগ্রাসী দুই ওপেনার হাবিবুর রহমান সোহান ও সাব্বির হোসেনকে তারা ফিরিয়ে দেয় দ্রুতই। সোহান ১ এবং সাব্বির ৬ রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরেন। নাঈম আহমেদ ও অধিনায়ক প্রিতম কুমারের জুটিতে দিন শেষ করে রাজশাহী। নাঈম ৩০ এবং প্রিতম ৯ রান নিয়ে ক্রিজে আছেন। চট্টগ্রামের এনামুল হক এবং আশরাফুল হাসান উইকেট দুটি তুলে নেন।












