সংসদ নির্বাচনের সব প্রার্থীর ভোটাধিকার চেয়ে হাই কোর্টে রিট আবেদন

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

| মঙ্গলবার , ১৮ আগস্ট, ২০২৬ at ৯:৪৮ পূর্বাহ্ণ

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া জয়ী ও পরাজিত সব প্রার্থীকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাই কোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা৫ আসনে বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী মো. সাইফুল আলম (ফুয়াদ) রোববার ‘জনস্বার্থে’ এ রিট আবেদন করেন। গত ৬ আগস্ট নির্বাচন কমিশনের জারি করা সার্কুলার এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১এর ২() ধারাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে এ মামলায়। সেখানে বিবাদী করা হয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবকে। খবর বিডিনিউজের।

রিট আবেদনে বলা হয়েছে, ৬ আগস্টের সার্কুলারটি ‘স্বেচ্ছাচারী, অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক’। এর মাধ্যমে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে জনগণের সরাসরি ভোট পাওয়া প্রার্থীদের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়া থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, যা সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত করা প্রজাতন্ত্রের গণতান্ত্রিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে ‘সাংঘর্ষিক’। মামলায় বলা হয়েছে, সংসদ নির্বাচনে সর্বাধিক ভোট পেয়ে বিজয়ী প্রার্থী এবং পরাজিত হলেও সরাসরি ভোট পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ‘কোনো যৌক্তিক ভিত্তি ছাড়াই বৈষম্যমূলক বিভাজন’ তৈরি করা হয়েছে। এটি সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে থাকা ‘আইনের দৃষ্টিতে সমতা ও সমআশ্রয় লাভের অধিকারের’ পরিপন্থি। সংবিধানের ২৬ অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ টেনে আবেদনে বলা হয়েছে, কোনো সংবিধিবদ্ধ বিধান বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্‌ণ করে কার্যকর করা যায় না। জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রশাসনের সব স্তরে কার্যকর অংশগ্রহণের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতাও বিবাদীরা ‘বিবেচনায় নেননি’। রিটকারী বলছেন, সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যরা সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত না হয়েও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। অথচ সরাসরি জনগণের সমর্থন পাওয়া পরাজিত প্রার্থীদের এ সুযোগ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কোনো প্রার্থী সংসদ নির্বাচনে জয়ী না হলেও তার পাওয়া ভোট জনগণের একটি অংশের গণতান্ত্রিক সমর্থনের প্রতিফলন। এ কারণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১এর সংশ্লিষ্ট বিধান সংবিধানের সঙ্গে ‘অসঙ্গতিপূর্ণ’ দাবি করে তা বাতিল অথবা সীমিতভাবে ব্যাখ্যার দাবি করা হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধজনপ্রত্যাশা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলার উন্নতিতে আরও সময় লাগবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পরবর্তী নিবন্ধউপসচিব হলেন ২৭৭ কর্মকর্তা