সংঘবদ্ধ চক্রের খপ্পরে নিখোঁজ কিশোরী, গ্রেপ্তার চার

আজাদী প্রতিবেদন | শুক্রবার , ১৫ জুলাই, ২০২২ at ৭:৩৮ পূর্বাহ্ণ

বান্দরবান সদর এলাকা থেকে এক মাস আগে নিখোঁজ হয় ১৫ বছরের কিশোরী তন্বী (ছদ্মনাম)। পুলিশ জানায়, সে হাতে পড়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের। তারা তাকে বাধ্য করে দেহ ব্যবসায়। এ চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরা হলো আবুল মাসুদ প্রকাশ মুন্না (৩৮), সেলিনা আক্তার (২৬), কামরুন নাহার সাথী (৩৭) ও নাসরিন আক্তার নেহা প্রকাশ শিল্পী (২৪)। এদের মধ্যে মাসুদ ও সেলিনাকে বান্দরবান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেয়া তথ্যে বান্দরবান সদর থানা পুলিশ বুধবার রাতে খুলশী থানা পুলিশের সহযোগিতায় নগরীর লালখান বাজার মতিঝর্না এবং বায়েজিদ বোস্তামি এলাকা থেকে এ চক্রের অন্যতম হোতা নাসরিন নেহা ও সাথীকে গ্রেপ্তার করে। চক্রের মূল হোতা সাদিয়ার খোঁজে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, অপহৃত মেয়েটি বর্তমানে সাদিয়ার কাছে রয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। সাদিয়ার খোঁজ মিললেই মেয়েটিকে উদ্ধার সম্ভব হবে। এ ঘটনায় মেয়ের মা বান্দরবান সদর থানায় প্রথমে মিসিং ডায়েরি ও পরবর্তীতে মামলা করেছেন। ওসি বান্দরবান আজাদীকে বলেন, গত মাসের ১৪ তারিখ বান্দরবান সদর এলাকা থেকে তন্বী (ছদ্মনাম) নিখোঁজ হয়। তার মা থানায় এসে একটি মিসিং ডায়েরি করেন। এরপর থেকে আমাদের অভিযান চলতে থাকে। এরই মধ্যে আমরা বান্দরবান থেকে মেয়েটিকে চট্টগ্রাম পৌঁছে দেওয়া দুই জনকে গ্রেপ্তার করি। তাদের কাছে তথ্য পাই মেয়েটিকে কখন কীভাবে চট্টগ্রাম শহরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এরপর মেয়েটির মা মানবপাচার আইনে একটি মামলা করেন। আমরা অনুসন্ধানে জানতে পারি যে মেয়েটিকে প্রথমে চট্টগ্রামে আতুরার ডিপো এলাকায় অসামাজিক কার্যকলাপ চলে এমন একটি বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে তাকে নেহার কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও তাকে দেহ ব্যবসায় বাধ্য করা হয়। এরপর সাদিয়ার কাছে পাঠানো হয়। ওসি আরো জানান, চট্টগ্রামে নেহা ও সাদিয়া এ কাজে জড়িত।
ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, নেহার কাছে থাকাবস্থায় শান্ত নামে এক ক্লায়েন্ট গিয়েছিল। কিন্তু মেয়েটিকে দেখে তার মায়া পড়ে যায়। তিনি মেয়েটিকে ব্যবহার না করে, তার নাম ঠিকানা, মায়ের ফোন নম্বর সংগ্রহ করে তার মায়ের সাথে যোগাযোগ করেন। তার মা বিষয়টি বান্দরবান থানা পুলিশকে জানান। এরপর গত ১২ জুলাই বান্দরবানে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত বুধবার রাতে খুলশী থানা পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালানো হয় নেহার বাসায়। গ্রেপ্তার করে তাকে বান্দরবান নিয়ে আসা হয়। বৃহস্পতিবার (গতকাল) নেহাকে বান্দরবান আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। রিমান্ডের শুনানি হয়নি। হলে আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসবো।
খুলশী থানার ওসি সন্তোষ চাকমা আজাদীকে বলেন, লালখানবাজার থেকে একটি মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারে বান্দরবান সদর থানা পুলিশ আমাদের সহযোগিতা চেয়েছিল। আমরা অভিযানে তাদের সহযোগিতা করেছি।
এদিকে নাসরিনের বাবা লালখান বাজার মতিঝর্না খ ইউনিট আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. হারুণ আজাদীকে বলেন, আপনারা যা বলছেন, তা সঠিক নয়। আমার মেয়ে নাসরিন কিছুদিন আগে একটি মেয়েকে নিয়ে এসেছিল আমার বাসায়। পরিচয় দিয়েছিল তার বান্ধবীর বোন হিসেবে। তাকে ভাত খাইয়েছিল। কিন্তু অপরিচিত মেয়েকে বাসায় নিয়ে আসায় আমার বড় মেয়ে নাসরিনকে বকাঝকা করে। তখন নাসরিন তাকে তার মায়ের কাছে দিয়ে আসে। শুনেছি, সেখান থেকেও মেয়েটি দুই দিন পর পালিয়ে যায়। এজন্য বোধহয় মেয়ের মা থানায় অভিযোগ করেছে। শুনেছি আমার মেয়েকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধঘরের দরজায় কাফনের কাপড় আতঙ্ক
পরবর্তী নিবন্ধমীরসরাইয়ে চলন্ত মাইক্রোতে আগুন