শোককে শক্তিতে পরিণত করে আজ নেপালের সামনে বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক | বুধবার , ৩ জুন, ২০২৬ at ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ

ভারতের গোয়াতে অবস্থানরত বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল গতকাল মঙ্গলবার ভোরে পেল এক দুঃসংবাদ। ফুটবলার শিউলি আজিমের মা পাড়ি দিয়েছেন না ফেরার দেশে। মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় সবকিছু। সকাল সাতটার অনুশীলনে নামতে যেখানে তোড়জোড় শুরুর কথা ছিল, সেখানে চারদিকে কান্নার রোল। শোকস্তব্ধ শিউলিমারিয়াদের মানসিক অবস্থা অনুভব করে অনুশীলনে গেল না দল। কিন্তু, শোক নিয়ে পড়ে থাকার সময়ও নেই। নেপালের বিপক্ষে নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালের মহারণ যে বুধবার। কোচ, কর্মকর্তাদের সকাল কেটেছে প্রিয়জন হারানো শিউলিমারিয়াদের সান্ত্বনা দিতে; বিষণ্ন দলকে মানসিকভাবে শক্ত করতে। টিম মিটিংয়ে, খাবার টেবিলে সবখানেই নেপাল ম্যাচের জন্য মেয়েদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করতে ব্যস্ত ছিলেন পিটার জেমস বাটলার ও তার সহকারীরা। সময় গড়ানোর সাথে সাথে একটু একটু করে আবেগ সামলে নিয়েছেন শিউলি; বাকিরাও। বিকালে তাই সমুদ্র সৈকতে সবাই যান একটু সতেজ বাতাসের খোঁজে। প্রিয় মাকে হারানোর বিষন্নতা নিয়ে শিউলিও সৈকতে যান, কখনও সতীর্থদের সাথে, কখনও একাকী পায়চারী করলেন। কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করে সবাই ফিরলেন হোটেলে। জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে আজ বুধবার নেপালের বিরুদ্ধে সেমিফাইনাল খেলতে নামবে বাংলাদেশ দল। বাংলাদেশ সময় সাড়ে ৪টায় শুরু হবে ম্যাচটি। গতকাল সকালের সেশন বাতিল হওয়ায় তেমন কোনো ক্ষতি দেখছেন না বাংলাদেশ কোচ পিটার জেমস বাটলার। ‘আমি মনে করি এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শিউলির পরিবারের প্রতি আমাদের সমবেদনা জানানো এবং তাদের জন্য প্রার্থনা করা। যখন কোনো টুর্নামেন্টের এমন পর্যায়ে থাকে দল, তখন মাঝেমধ্যে অতিরিক্ত অনুশীলনেরও একটা ঝুঁকি থাকে। তাই আমার মনে হয় না, শিউলির মায়ের মৃত্যুর কোনো বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। মানসিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দলের বেশ অভিজ্ঞ একজন সদস্য এবং সবার কাছে অত্যন্ত সম্মানিত ও প্রিয়। এই বিরতিটা সবাইকে কিছুটা সময় দিয়েছে ঘটে যাওয়া বিষয়টি নিয়ে ভাবার এবং উপলব্ধি করার যে, জীবন কখনো কখনো কতটা ছোট এবং নিষ্ঠুর হতে পারে।’ প্রিয়জন হারানোর শোককে শক্তিতে রূপ দিয়ে, ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে দল নেপালের বিপক্ষে খেলতে নামবে বলেও বিশ্বাস বাটলারের। ‘আমি মেয়েদের ঠিক এটাই বলছিলাম যে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজেদের প্রস্তুত করা এবং ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে যাওয়া। মূল চ্যালেঞ্জটা হলো দুঃখ, মর্মান্তিক ঘটনা এবং বিশেষ করে আমরা যে পরিস্থিতিতে আছি, সেই শোককে ইতিবাচক শক্তিতে রূপান্তরিত করা। কাজটা মোটেও সহজ নয়। তবে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই মেয়েরা মাঠে গিয়ে দারুণ পারফরম্যান্স দেখানোর সক্ষমতা রাখে। এখন আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কাঙ্খিত ফলাফল, অর্থাৎ জয় তুলে আনা। আমরা হাত গুটিয়ে বসে থাকব না, আমরা জয়ের জন্যই ঝাঁপাব। আমরা কোনো চেষ্টার ত্রুটি রাখব না এবং একটি ইতিবাচক ও আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়েই মাঠে নামব।’ শেষ খবরে জানা গেছে শিউলিকে ছাড়াই তার মায়ের শেষকৃত্য গতকাল সম্পন্ন হওয়ার কথা। ফ্লাইট জটিলতা এবং দীর্ঘ পথের কারণে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন চেষ্টা করা সত্ত্বেও শিউলির দেশে ফেরা সম্ভব হয়নি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধশহীদ জিয়া স্মৃতি গোল্ডকাপ ফুটবলের প্রতিনিধি সভা
পরবর্তী নিবন্ধজেলা পর্যায়ে জাতীয় স্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উদ্বোধন