ওমানের আল আমেরাতে অনূর্ধ্ব–১৯ এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশকে ১১৩ রানে হারাল আফগানিস্তান। আফগানিস্তানের ২৩১ রানের জবাবে মাত্র ১১৮ রানে গুটিয়ে যায় ২০২৪ সালের চ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের প্রথম ভাগে ব্যাট–বলের লড়াই জমে উঠে দারুণ। বাংলাদেশের পেসারদের ছোবল সামলে বেশ লড়িয়ে সংগ্রহ গড়ে আফগানিস্তান। কিন্তু পরের ভাগে লড়াই হলো না কিছুই। আফগান বোলারদের সামনে যেন স্রেফ অসহায় আত্মসমপর্ণ করল বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। গত মাসে চার ম্যাচের যুব ওয়ানডে সিরিজে আফগানদের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। দারুণ লড়াইয়ে ২–২ ড্র হয়েছিল সিরিজটি। তবে এশিয়া কাপের শিরোপা পুনরুদ্ধারের অভিযানে পাত্তাই পেল না ফরিদ হাসানের নেতৃত্বাধীন দল। রান তাড়ায় শুরু থেকেই একের পর এক উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ওভারে আমির হামজার বলে এলবিডব্লিউ হন আবদুল্লাহ আল মুহি। পাওয়ার প্লের মধ্যে তার পথ ধরে আলআমিন হোসেন রনি, আহসান আল মুমিন, ফরিদ হাসান ও আল রাফি। একাদশ ওভারের প্রথম বলে ড্রেসিং রুমে ফিরে যান রকিবুল হোসেনও। মাত্র ৪১ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় তখন দল। সপ্তম উইকেটে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন ওপেনার জারিফ সিয়াম ও রবিউল হাসান অনিক। তবে ৫৫ রানের বেশি বড় হয়নি তাদের জুটি। পরপর দুই ওভারে ফিরে যান তারা দুজন। ৬ চারে ৫৮ বলে ৪১ রান করেন সিয়াম। অনিকের ব্যাট থেকে আসে ৪ চার ও ১ ছক্কায় ৪৭ বলে ৩৩ রান। এক পর্যায়ে একশর নিচে গুটিয়ে যাওয়ার মুখে ছিল বাংলাদেশ। শেষ দিকে রুবাই ইসলাম রিজন ১৪ বলে করেন ২১। আফগানদের হয়ে ৩টি করে উইকেট নেন নুর আলি নিয়াজাই, আমির হামজা ও সামিউল্লাহ মুবারেজ। সকালে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে রানের চাকা সচল রেখে খেলতে থাকে আফগানিস্তান। প্রথম ১০ ওভারে বাংলাদেশ নিতে পারেনি দুটি উইকেট। পাওয়ার প্লে শেষে পরপর দুই বলে আবিদউল্লাহ নাদারজান ও নোমার সালারজাই ফিরলে চাপে পড়ে যায় আফগানরা। পঞ্চম উইকেটে ৬১ রানের জুটিতে প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দেন শাহ ফয়সাল রাহিমি ও তাহির সারওয়ারি। একবার জীবন পেয়ে ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৪৩ বলে ৩৭ রান করেন সারওয়ারি। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে একপ্রান্ত আগলে রেখে দলকে এগিয়ে নেন রাহিমি। সোহাইল খান, আমির হামজা, সামিউল্লাহরা ছোট ছোট ইনিংসে রাখেন অবদান। অষ্টম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার আগে ৮ চার ও ১ ছক্কায় ৯৭ বলে ৮৩ রান করেন রাহিমি। আফগানরা পেরিয়ে যায় ২৩০। পরে তা যথেষ্টরও বেশি প্রমাণিত হয়। বাংলাদেশের হয়ে ৪ উইকেট নেন যুব ওয়ানডেতে অভিষিক্ত পেসার তাফিউল আলম তামিম। এছাড়া অন্য দুই পেসার রিজন ও শেখ আতিকুর রহমানের শিকার ১টি করে উইকেট। অফ স্পিনার অনিক নেন ২ উইকেট। একই মাঠে শনিবার শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।












