সীতাকুণ্ডে সীমা অক্সিজেন প্লান্টে অগ্নিকাণ্ডের জেরে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক পারভেজ উদ্দিন সান্টুকে শিল্প পুলিশ কোমরে দড়ি বেঁধে আদালতে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিজিএমইএ’র প্রথম সহ–সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম। গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, উদ্যোক্তাগণ শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনপূর্বক তা পরিচালনার জন্য বিভিন্ন স্তরে চাহিদা মোতাবেক প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেন। এক্ষেত্রে সীমা প্ল্যান্টেও অগ্নি নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কাজে নির্ধারিত কর্মকর্তা নিয়োজিত ছিল। অগ্নিদুর্ঘটনা পরবর্তীতে যথাযথ তদন্তপূর্বক জড়িতদের চিহ্িনত না করেই একজন শিল্পোদ্যোক্তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে অপমানজনকভাবে কোমরে দড়ি বেঁধে আদালতে উপস্থাপন করায় শিল্পমালিক মহলে ভীষণ ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এতে বিভিন্ন শ্রেণীর শিল্প উদ্যোক্তাগণ চরম হতাশা ব্যক্ত করেছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরকার ও আইনশৃক্সখলা বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী সমাজকে ক্ষেপিয়ে তোলার পাঁয়তারা কিনা তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষিতে বর্তমান অর্থনৈতিক মন্দাবস্থায় শিল্প মালিকগণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক সহযোগিতায় নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও ব্যাপক শিল্পায়নে প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনার ফলে ব্যবসা বাণিজ্য সহ শিল্প প্রসারে উদ্যোক্তাগণ আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন; যা বর্তমান অর্থনৈতিক মন্দাবস্থায় দেশের শিল্পায়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে মর্মে তিনি আশংকা ব্যক্ত করেন। তিনি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে শিল্প উদ্যোক্তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বিবেচনায় তাঁদেরকে যথাযথ মূল্যায়ন ও সম্মান নিশ্চিতকরণ সহ ভবিষ্যতে এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান। একই সাথে এ ধরনের আইন বহির্ভূত ও গর্হিত কাজে যারা জড়িত তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।
অপরদিকে একই ঘটনায় বাংলাদেশ শিপ ব্রেকিং এসোসিয়েশন (বিএসবিএ) গতকাল এক প্রতিবাদ সভা করেছে। সভায় আগামীকাল শনিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।












