আজ জুলাই আন্দোলনের শহীদ ওয়াসিম আকরামের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বিকেল ৩টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের মুরাদপুর এলাকায় কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান ওয়াসিম আকরাম। তাঁর সঙ্গে আরও তিনজন নিহত হন। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও ছেলে হারানোর শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি মা জোসনা আক্তার। সন্তানের স্মৃতি আঁকড়ে ধরেই কাটছে তাঁর প্রতিটি দিন। ওয়াসিমের কিনে দেওয়া স্মার্টফোনটি এখনও বুকের কাছে আগলে রাখেন তিনি। কখনও ফোনটির দিকে তাকিয়ে অশ্রুসজল কণ্ঠে বলেন, ‘এই ফোনে আর ছেলের কল আসে না।’
ওয়াসিম আকরামের বাড়ি কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাঘগুজারা বাজারপাড়া এলাকায়। প্রবাসী শফিউল আলম ও জোসনা আক্তার দম্পতির পাঁচ সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ও স্বপ্নবাজ ছিলেন ওয়াসিম। ২০১৭ সালে মেহেরনামা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ২০১৯ সালে বাকলিয়া সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষে চট্টগ্রাম কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। মৃত্যুর সময় তিনি চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি তিনি ছাত্ররাজনীতির সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে পেকুয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন।
ওয়াসিমের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পেকুয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দোয়া মাহফিল, কোরআনখানি, শোকসভা ও স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। পরিবার, সহপাঠী, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা এবং স্থানীয় মানুষ নানা আয়োজনে তাঁকে স্মরণ করছেন।











