রেয়াজুদ্দিন বাজারের ৮শ দোকান ও গুদামে পানি

সবচেয়ে বেশি ক্ষতি কাপড়, জুতা ও কসমেটিকসের

জাহেদুল কবির | মঙ্গলবার , ১৮ আগস্ট, ২০২৬ at ৯:২১ পূর্বাহ্ণ

নগরীর রেয়াজুদ্দিন বাজারে রোববার মধ্যরাতের ভারি বৃষ্টিপাতের প্রভাবে প্রায় ৮০০ দোকানগুদামে পানি প্রবেশ করেছে। পানিতে জুতাকাপড় ও কসমেটিকস পণ্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বাহার লেইনের দুই পাশের মার্কেট, রফিক উদ্দিন সিদ্দিকী মার্কেটের দুই পাশ, গোলাম রসুল মার্কেট ও পৌর হকার্স মার্কেটের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। এসব প্রতিষ্ঠানে কোমর সমান পানি ছিল। এক রাতের ভারি বৃষ্টিতে দোকানগুদামে পানি প্রবেশ করবে ব্যবসায়ীদের কল্পনাতেও ছিল না। ফলে কেউ পণ্য সরানোর সময়ও পায়নি। পানিতে ব্যবসায়ীদের অন্তত ৫০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি। রেয়াজুদ্দিন বাজারে গতকাল বিকেলে সরেজমিনে দেখা গেছে, ব্যবসায়ী ও দোকান গুদামের কর্মচারীরা কাঁদামাটি মিশ্রিত পানি নিষ্কাশনে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অনেকে ভেজা পোশাক কুড়িয়ে স্তূপ করে রাখছেন। একই অবস্থা দেখা গেছে জুতা, কসমেটিকস ও ইলেকট্রনিঙের দোকানেও।

ইলিয়াস উদ্দিন নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, বৃষ্টির পানিতে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রচুর পরিমাণ কসমেটিকস নষ্ট হয়েছে। এতে আমার অন্তত ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমার ৩০ বছরের ব্যবসায়িক জীবনে এত পানি কখনো দেখিনি। আগেও দোকানে অল্প স্বল্প পানি প্রবেশ করেছে। তবে সেই সময় আমরা মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছিলাম। এবার তো মালামাল সরানোর সময়ও পায়নি।

কয়েকজন ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা সরকারকে ভ্যাটট্যাঙ দিয়ে ব্যবসা করছি। অনেকে ব্যাংকের ঋণের বোঝা টানছেন। তারপরেও আমাদের কথা কেউ ভাবে না। এমনিতেই ব্যবসা বাণিজ্যের করুণ অবস্থা। খরচের সাথে পাল্লা দিয়ে ব্যবসা করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তারমধ্যে এই ধাক্কা অনেক ব্যবসায়ী কাটিয়ে উঠতে পারবে না। রেয়াজুদ্দিন বাজারের মার্কেটের আশপাশে ছোট বড় নালা নর্দমাগুলো যদি নিয়মিত পরিষ্কার করা হতো, তবে আমাদের এমন বিপর্যয় নামতো না। এই পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা মার্কেটের নালা নর্দমা নিয়মিত পরিষ্কার করার মাধ্যমে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখার দাবি জানান।

রেয়াজুদ্দিন বাজার বণিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি ছালামত আলী আজাদীকে বলেন, আমাদের সমিতির অধীনে ছোট বড় ৩০০টি মার্কেট আছে। এসব মার্কেটে ১০ হাজারেরও বেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে। পাইকারী ও খুচরা ক্রেতাদের আনাগোনায় সব সময় মুখর থাকে রেয়াজুদ্দিন বাজার। গত রোববার দিবাগত রাতের ভারি বৃষ্টির কারণে মার্কেটে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে সেই পানি ব্যবসায়ীদের দোকানগুদামে প্রবেশ করে। আমাদের হিসেবে অন্তত ৮০০ দোকানগুদামে পানি প্রবেশ করেছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য পানি প্রবেশ করেছে জুতা, কাপড় ও কসমেটিকসের দোকানে। এতে ব্যবসায়ীরা বিপুল আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন। ক্ষতির পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকার কম হবে না।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচার দিন পরও জাহাজটি পুরোপুরি গ্যাসমুক্ত হয়নি
পরবর্তী নিবন্ধঅর্থবছরের নতুন সময় ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ