রেয়াজুউদ্দিন বাজার বণিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি সম্পাদকসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

পলিথিন বিরোধী অভিযানে বাধা

আজাদী প্রতিবেদন | শুক্রবার , ২১ অক্টোবর, ২০২২ at ৫:৩৯ পূর্বাহ্ণ

পলিথিন বিরোধী অভিযানে বাধা দেয়ায় রেয়াজুউদ্দিন বাজার বণিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি ছালামত আলীসহ পাঁচ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। সংস্থাটির চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল মতিন বাদী হয়ে গতকাল কোতোয়ালী থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলার অন্য আসামীরা হচ্ছেন রেয়াজুউদ্দিন বাজার বণিক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল কালাম, যুগ্ম সম্পাদক মোঃ আব্দুল শুক্কুর, কোষাধ্যক্ষ কাজী মোঃ মাহবুবুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মোহাম্মদ ইদ্রিস।

পরিবেশ অধিদপ্তর মহানগর কার্যালয়ের পরিচালক হিল্লোল বিশ্বাস জানান , বুধবার বিকেলে জেলা প্রশাসন এবং পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয় যৌথভাবে রেয়াজুউদ্দিন বাজারে সরকার ঘোষিত নিষিদ্ধ পলিথিন গুদামজাতকরণ এবং বাজারজাতকরণের বিরুদ্ধে একটি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে। বাজারের রেস্ট হাউস রেস্টুরেন্ট সংলগ্ন গোশত মার্কেটের কাছে নামহীন নীল রংয়ের শাটারওয়ালা একটি পাকা টিন শেড দোকানে অভিযান পরিচালিত হয়। আশেপাশের দোকানদারককে ঘরটির মালিকানা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে কেউ তথ্য দিতে পারেননি। দোকানটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে উপস্থিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে দোকানটির তালা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করা হয়। দোকানের ভেতর অবৈধ এক হাজার কেজি পলিথিন শপিং ব্যাগ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ২০০ কেজি পর্যন্ত জব্দ করার পর রেয়াজুউদ্দিন বাজার বণিক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কালাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। সাথে সাথে আরো আশেপাশের দোকানের মালিক ও কর্মচারীরা একত্রিত হয়ে যান এবং বাকি ৮০০ কেজি পলিথিন জব্দ করতে বাধা দেন। বাধার কারণে পাশের অন্য আরেকটি দোকানে নিষিদ্ধ পলিথিন থাকার তথ্য থাকলেও সেখানে প্রবেশ করে তল্লাশি করা সম্ভব হয়নি।

হিল্লোল বিশ্বাস জানান, কেন রেয়াজুউদ্দিন বাজার বণিক কল্যান সমিতির সাধারণ সম্পাদককে না জানিয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে সে বিষয়ে আবুল কালাম জিজ্ঞেস করেন। সাধারণ সম্পাদক উল্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে দোকান মালিক এবং কর্মচারিদের উত্তেজিত করে তুলেন বলে জানান হিল্লোল বিশ্বাস। তিনি বলেন, এর পর আনুমানিক বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে আলহাজ্ব ছালামত আলী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তার উপস্থিতিতে সাধারণ কর্মচারি এবং দোকান মালিকেরা আরো বেশি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। পরবর্তীতে কোতোয়ালী থানা হতে ৮-৯ জন পুলিশ এসে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এসময় পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মোঃ শাওন শওকত পায়ে আঘাত হন।

হিল্লোল বিশ্বাস জানান, প্রাথমিকভাবে পাঁচ জনকে সনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ ও ছবি দেখে বাকি আসামীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপটিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে রোগী ‘ভাগিয়ে নিচ্ছেন’ নার্স!
পরবর্তী নিবন্ধডলার সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতিসহ সাত সমস্যা চিহ্নিত : সিপিডি