অতিবর্ষণ ও পাহাড়ধসে ভোরের আলো ফোটার আগেই ২০১৭ সালের ১৩ জুন লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছিল রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রাজানগর ও ইসলামপুর ইউনিয়ন। মাটির নিচে চাপা পড়ে মুহূর্তেই নিভে গিয়েছিল চার পরিবারের ২১টি তাজা প্রাণ। একই বছরের ডিসেম্বরে পাহাড় কাটার সময় মাটি চাপা পড়ে মারা যান আরও ৩ জন। সেই ভয়াবহ ও মর্মান্তিক পাহাড়ধসের ৯ বছর পূর্ণ হলো। কিন্তু ৯ বছরেও রাঙ্গুনিয়ায় থামেনি পাহাড় কাটার মহাযজ্ঞ, কমেনি পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস। ভয়াল সেই স্মৃতির ৯ বছর পেরুলেও রাঙ্গুনিয়াজুড়ে পাহাড়ধসের ঝুঁকি রয়ে গেছে।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রাঙ্গুনিয়ার ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় ৯ হাজার একর সরকারি, ১৫ হাজার একর সংরক্ষিত বনভূমি এবং পাহাড় রয়েছে। এসব পাহাড়ের চূড়ায় ও পাদদেশে গড়ে উঠেছে প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি বসতঘর। বর্তমানে অন্তত ৩০ হাজার মানুষ এখানে চরম মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে।
টানা বর্ষণ শুরু হলে প্রতিবছর উপজেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের সরে যেতে মাইকিং করা হয়। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো নিরাপদ আশ্রয়ের নিশ্চয়তা বা জোরদার পদক্ষেপ না থাকায়, বাসিন্দারা জীবনের ঝুঁকি নিয়েই সেসব ঘরে বসবাস করে চলছেন। এছাড়া পাহাড় কাটাও অব্যাহত রয়েছে সারাবছর ধরে।
২০১৭ সালের ১৩ জুনের সেই স্মৃতি আজও তাড়া করে বেড়ায় রাঙ্গুনিয়াবাসীকে। সেদিন ভোরে পাহাড়ধসের পৃথক ঘটনায় উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের বগাবিলী টাইক্যাঘোনা এলাকায় কাঁচা বসতঘরের ওপর পাহাড়ধসে একই পরিবারের ৪ জন নিহত হন। রাজানগর বালুখালী এলাকায় পাহাড়ধসে মাটি চাপা পড়ে প্রাণ হারান আরও ৪ জন। ইসলামপুর মইন্যারটেক এলাকায় এক দম্পতিসহ একই পরিবারের ৫ জন মারা যান। ইসলামপুর পাহাড়তলীঘোনায় পাহাড়ধসের ঘটনায় আরও ৮ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান বলেন, পাহাড় কাটা রোধে নিয়মিত অভিযান চালানো হয়। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের পাহাড় ছাড়তে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পাহাড়ের বাসিন্দাদের স্থায়ী পুনর্বাসনের বিষয়ে উচ্চ মহলে আলোচনা ও পরিকল্পনা প্রয়োজন।












