রাঙ্গুনিয়ার ঘাটচেক কালভার্টের গোড়ায় ধস, উপরিভাগে ফাটল

এ অবস্থায় এক মাস ধরে চলছে যানবাহন

জগলুল হুদা, রাঙ্গুনিয়া | শনিবার , ১ আগস্ট, ২০২৬ at ৬:৩৪ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রামকাপ্তাই সড়কের রাঙ্গুনিয়ার ঘাটচেক এলাকায় কালভার্টের গোড়ার একপাশ ধসে গিয়ে এবং উপরিভাগে ফাটল দেখা দেওয়ায় চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তাৎক্ষণিক দুর্ঘটনা এড়াতে ধসে যাওয়া অংশের চারদিকে সিমেন্টের বস্তা দিয়ে লাল পতাকা টাঙিয়ে দেওয়া হলেও আতঙ্কের মধ্য দিয়েই চলাচল করছে হাজার হাজার যানবাহন। শুধু এটিই নয়, দীর্ঘদিন ধরে এরকম কয়েকটি জরাজীর্ণ সেতু, বুড়ির দোকানের কোমর সমান পানি আর ভবানিমিল আজিজনগর এলাকায় পাহাড়ি কাদামাটির কারণে সৃষ্ট যানজটে অতিষ্ট চালক ও যাত্রীরা। দ্রুত এই কালভার্টসহ পুরো সড়কের স্থায়ী সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চট্টগ্রামকাপ্তাই সড়কের রাঙ্গুনিয়ার ঘাটচেক এলাকার প্রবেশপথেই কালভার্টের গোড়ার একপাশ ভয়াবহভাবে ধসে পড়েছে। ধসে যাওয়া অংশের পাশেই কালভার্টের উপরের মাটিতে ফাটল দেখা দেওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা। যেকোনো মুহূর্তে কালভার্টের গোড়ায় দুর্ঘটনা ঘটে প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। সড়ক বিভাগ ঝুঁকি এড়াতে ধসে যাওয়া অংশের চারপাশে সিমেন্টের বস্তা দিয়ে ঘেরাও করে একটি লাল পতাকা টাঙিয়ে দিয়েছে। দীর্ঘ প্রায় এক মাস ধরে এই অবস্থা চলে এলেও কোনো স্থায়ী মেরামত না করায় চরম আতঙ্কের মধ্য দিয়ে চলছে যানবাহন।

ঘাটচেকের এই ঝুঁকিপূর্ণ কালভার্ট ছাড়াও কাপ্তাই সড়কের রোয়াজারহাটের পশ্চিম পাশের সেতু ও কলেজ গেট এলাকার সেতুটিও জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। অন্যদিকে বুড়ির দোকান, ওয়াসা, ও আজিম নগর এলাকার দীর্ঘদিনের তীব্র খানাখন্দ যেন যাত্রীদের নিত্যদিনের সঙ্গী। বুড়ির দোকান অংশে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই কোমর সমান পানি জমে যায়। মাঝেমধ্যে জোড়াতালির সংস্কার করা হলেও পানি নামার পথ না থাকায় তা আবার আগের মতো খানাখন্দে পরিণত হয়। একই অবস্থা আজিম নগর মসজিদ সংলগ্ন এলাকাতেও। এছাড়া পৌরসভার গোডাউন ও ভবানিমিলের মধ্যবর্তী আজিজ নগর অংশে সামান্য বৃষ্টিতেই পাহাড়ি কাদামাটি নেমে সড়কে স্তূপ হয়ে যায়, যা ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট তৈরি করে। কালভার্টের এমন চরম ঝুঁকি ও সড়কের বেহাল দশা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চালক ও সাধারণ যাত্রীরা।

ঘাটচেকের এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াতকারী সিএনজি টেক্সি চালক মো. এরশাদ বলেন, ঘাটচেকের কালভার্টটার গোড়া যেভাবে ধসে গেছে আর ফাটল ধরেছে, সেখানে শুধু একটা লাল পতাকা টাঙিয়ে রাখা হয়েছে। ভারী গাড়ি গেলে মনে হয় এই বুঝি ধসে নিচে পড়ে গেল। সড়কে নিয়মিত যাতায়াতকারী ব্যাংকার শাহ আলম বলেন, প্রতিদিন ব্যাংকে যাওয়ার পথে কাপ্তাই সড়কে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বুড়ির দোকান এলাকায় বৃষ্টি হলেই কোমর সমান পানি জমে থাকে, পানির নিচে গর্ত দেখা যায় না। তাই গাড়ি চলতে গিয়ে অনেক সময় উল্টে যাচ্ছে। একইভাবে ওয়াসা ও আজিম নগর এলাকার তীব্র খানাখন্দে গাড়ি চলে হেলেদুলে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ সহকারী প্রকৌশলী মুহাম্মদ ইউনুস জানান, কালভার্টের স্থায়ী সংস্কারের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। এছাড়া বুড়ির দোকান ও ওয়াসা এলাকায় সড়ক উচু করে স্থায়ী সংস্কার করা হবে। এর বাইরেও সড়কের যেসব সমস্যা রয়েছে, তার স্থায়ী সমাধানে শীঘ্রই প্রযোজনী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, বর্তমানে সড়কের জিয়া নগর থেকে গোডাউন পর্যন্ত দুই পাশে সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ চলমান রয়েছে। তবে সেই কাজের পাশাপাশি ধসে যাওয়া ঘাটচেক কালভার্টসহ জরাজীর্ণ সেতু ও ড্রেনেজ সমস্যার দ্রুত টেকসই সমাধান চান চালক ও সাধারণ যাত্রীরা।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকর্ণফুলীতে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু
পরবর্তী নিবন্ধরাঙ্গুনিয়ায় বিল্ডিংয়ে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট, তরুণের মৃত্যু