চট্টগ্রামের রাউজানে আবারও প্রতিপক্ষের গুলিতে খুনের ঘটনা ঘটেছে। এবার দুর্বৃত্তের গুলিতে মোহাম্মদ করিম (৩৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। গতকাল রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের কেরানিহাটে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মোহাম্মদ করিম উরকিরচর ইউনিয়নের হারপাড়া গ্রামের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. শফীর ছেলে। হত্যাকাণ্ডের পর আতংকিত ব্যবসায়ীরা বাজারে সব দোকান বন্ধ করে চলে গেছেন। সড়কে পড়ে ছিল লাশ।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাত সাড়ে নয়টার দিকে মোহাম্মদ করিম কেরানিহাটে অবস্থান করছিলেন। এ সময় পাশের পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের দিক থেকে কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি বাজারে আসে। তারা করিমকে লক্ষ্য করে কয়েকটি গুলি করে মোটর সাইকেলে করে পালিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোটর সাইকেলে করে এসে করিমকে বুকে গুলি করে হত্যা করা হয়। রাত ১০টা পর্যন্ত করিমের মরদেহ রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
নোয়াপাড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ আনিসুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘উরকিরচরের কেরানিহাট এলাকায় কে বা কারা একজনকে গুলি করে হত্যা করেছে। বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’
পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে হত্যাকাণ্ডের কারণ, জড়িতদের শনাক্ত ও ঘটনার পেছনের বিরোধ খতিয়ে দেখছে বলে জানান তিনি।
স্থানীয়দের দাবি, নিহত করিম মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে তাদের ধারণা। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ঘটনাটি রাজনৈতিক
হত্যাকাণ্ড নয় বলে মনে করছেন তারা।
কেউ কেউ বলছেন, গুলিতে নিহত মোহাম্মদ করিমকে স্থানীয় সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর মিছিল মিটিংয়ে সক্রিয়ভাবে দেখা যেতো যুবদল কর্মী পরিচয়ে। যদিও উপজেলা যুবদলের সভাপতি শাহাজাহান সাহিল নিহত আবদুল করিম দলের কোনো পদ পদবীধারী কেউ নয় বলে জানান।
স্থানীয়রা জানান, এলাকায় করিমের দলবল নিয়ে চলাফেরা ছিল। বিভিন্ন সময় নানা অপরাধের সাথে জড়িত ছিল। গতকাল বিকালেও সদলবলে তাকে বাইক নিয়ে ছুটাছুটি করতে দেখেছেন অনেকেই।
এলাকার বেশ কয়েকজন জানান, বিভিন্ন অপরাধে একাধিকবার জেল হাজতেও গিয়েছে করিম। অপর একটি সূত্র জানায়, মাদক ও আগে মাটি কাটার হিসাবের টাকার ভাগাভাগি নিয়ে নিজেদের গ্রুপের সাথে চাপা বিরোধ চলেছিল তার। ধারণা করা হচ্ছে, এই বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড।
এ বিষয়ে রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, তারা ঘটনাস্থলে আছেন। ঘটনার কারণ উদঘাটন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৩ জুন রাউজানের পাহাড়তলী বাজারের চৌমুহনী এলাকায় একদল অস্ত্রধারী গুলি করে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে (৪৮) হত্যা করে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে রাউজানে ২৭টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ২০টি হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক বিরোধের জেরে হয়েছে। একই সময়ে শতাধিক গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হওয়াসহ সাড়ে তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। তবে এসব ঘটনার সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা তদন্তের বিষয়।











