যে কারণে বৌদ্ধরা আকাশমুখে ফানুস তোলে

বিনয়মিত্র নিমফুল | শুক্রবার , ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ at ১০:০৭ পূর্বাহ্ণ

প্রবারণা বা পালি ‘প্রবারণা’ শব্দের অর্থ হলো ভুল–ত্রুটি স্বীকার, সংশোধনের অনুরোধ এবং অসত্য, অন্যায় ও অকুশল কর্ম বর্জন করে সত্য, ন্যায় ও কুশল কর্মকে বরণ করা। প্রবারণা বৌদ্ধ ভিক্ষুসংঘের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনয় বিধান। এর মাধ্যমে ভিক্ষুরা পরস্পরের ভুল–ত্রুটি স্বীকার করে সংশোধনের অঙ্গীকার করেন এবং পারস্পরিক মৈত্রী, সৌহার্দ্য ও সমপ্রীতি সুদৃঢ় করেন।

বৌদ্ধ ত্রিপিটক সাহিত্যে কথিত আছে, বর্ষাবাস শেষে কিছু ভিক্ষু বুদ্ধের কাছে উপস্থিত হয়ে জানান যে, তাঁরা তিন মাস পরস্পরের সঙ্গে বাক্যালাপ না করে মৌনভাবে বর্ষাবাস অতিবাহিত করেছেন। তাঁদের কথা শুনে বুদ্ধ ভিক্ষুসংঘকে বর্ষাবাস শেষে প্রবারণা উদযাপনের বিধান প্রদান করেন। আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা পর্যন্ত বর্ষাবাসের সমাপ্তি ঘটে। তাই আশ্বিনী পূর্ণিমার অপর নাম প্রবারণা পূর্ণিমা।

ফানুস উত্তোলনের কারণ: বৌদ্ধ ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, রাজকুমার সিদ্ধার্থ সংসার ত্যাগ করে সন্ন্যাস গ্রহণের সময় নিজের চুলের গোছা আকাশের দিকে নিক্ষেপ করে অধিষ্ঠান করেছিলেন। তাঁর চুলগুলো মাটিতে না পড়ে আকাশে স্থিত হয়েছিল। স্বর্গের ইন্দ্ররাজা সেই কেশধাতু স্বর্ণপাত্রে ধারণ করে তাবতিংস স্বর্গে স্থাপন করেন এবং সেখানে ‘চুলামনি চৈত্য’ নির্মাণ করেন। বৌদ্ধ ভক্তরা স্বর্গে আরোহণ করে এই চৈত্যের পূজা করতে পারেন না। তাই পরম শ্রদ্ধায় কাগজের ফানুস তৈরি করে আকাশ–প্রদীপ হিসেবে উত্তোলন করেন এবং ধর্মীয় গাথা ও মন্ত্র পাঠের মাধ্যমে চুলামনি চৈত্যের প্রতি পূজা নিবেদন করেন। প্রবারণা পূর্ণিমায় বৌদ্ধরা বুদ্ধপূজা, ভিক্ষুসংঘকে আহার্য দান, পঞ্চশীল ও অষ্টশীল গ্রহণ এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করেন। সন্ধ্যায় উৎসবমুখর পরিবেশে ফানুস উত্তোলন করা হয়। প্রবারণার মূল শিক্ষা হলো সব ভেদাভেদ ও ভুল–ত্রুটি ভুলে গিয়ে সত্যকে গ্রহণ করা, অন্যায় বর্জন করা এবং পারস্পরিক মৈত্রী ও সমপ্রীতি প্রতিষ্ঠা করা। এই আদর্শ অনুশীলনের মাধ্যমে একটি পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

পূর্ববর্তী নিবন্ধঅদৃশ্য সত্য
পরবর্তী নিবন্ধকলেজ জীবনের স্মৃতি