রাউজানে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদুল হক চৌধুরীকে (৪৫) হত্যার ঘটনায় দুদিন পর মামলা করেছেন তার বড় ভাই। নিহত মাসুদুলের বড় ভাই ও বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান পেয়ারুল হক চৌধুরী স্বপন বাদী হয়ে গত সোমবার রাতে রাউজান থানায় মামলাটি (নং ১৪) করেছেন। মামলায় এজাহারনামীয় ১১ জন এবং অজ্ঞাতনামা আরো ৭–৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এই ঘটনায় নিহত মাসুদুলের পকেট থেকে মানিব্যাগ নেওয়া রায়হান ও বাজারে সন্দেহভাজনভাবে ঘোরাফেরা করা জাকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মূল আসামিদের ধরতে পুলিশের পাশাপাশি র্যাব, ডিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যৌথ অভিযান চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন রাঙ্গুনিয়া–রাউজান সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন। তিনি জানান, এই ঘটনায় রায়হান ও জাকিরকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে যাদের অস্ত্র হাতে দেখা গেছে, সেই চিহ্নিত সন্ত্রাসীসহ বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, র্যাব–৭ চট্টগ্রাম অভিযান চালিয়ে মো. রায়হান নামে যাকে গ্রেপ্তার করেছে, সে মূলত সিসিটিভি ফুটেজে মাসুদের নিথর দেহ থেকে মানিব্যাগ টেনে নেওয়া ব্যক্তি। এছাড়া বাজারে সন্দেহজনক গতিবিধি থাকায় মোহাম্মদ জাকির (৪২) নামে স্থানীয় এক দোকানিকেও গ্রেপ্তার করে এই মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
গত শনিবার দুপুরে রাউজানের পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে প্রকাশ্য দিবালোকে এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটে। পুলিশের একটি সূত্র জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সরাসরি অস্ত্র হাতে অংশ নেওয়া যে ৫ ক্যাডারকে শনাক্ত করা হয়েছে তারা হলো কদলপুরের মোহাম্মদ ইলিয়াস ওরফে দামা ইলিয়াস, দিনারুল আলম ওরফে দিনার, রাউজান পৌরসভার ফরেস্ট অফিস এলাকার মোহাম্মদ ইউসুফ, রাউজান সদরের পূর্ব রাউজান এলাকার মোহাম্মদ জাহেদ ও মোহাম্মদ আবছার।
ঘটনার দিন মাসুদুল হক চৌধুরী রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী এলাকা থেকে টেঙি করে চৌমুহনী বাজারে আসেন। ৫ থেকে ৭ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী আরেকটি টেঙিতে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূর থেকে তাকে অনুসরণ করে আসছিল। মাসুদুল টেঙি থেকে নেমে একটি ওষুধের দোকানের সামনে দাঁড়ানো মাত্রই সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে অতর্কিতে গুলি চালায়। প্রথমে দামা ইলিয়াস ও দিনারুল তাকে লক্ষ্য করে ব্রাশফায়ার করে। মাসুদুল মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পর ইউসুফ, জাহেদ ও আবছার দৌড়ে এসে তাকে লক্ষ্য করে মাথায় আরো কয়েকটি গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বেতাগী ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পদে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন জনপ্রিয় এই যুবদল নেতা। এই রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করেছে কর্ণফুলী নদীর বালু মহাল নিয়ন্ত্রণ ও আঞ্চলিক আধিপত্যের বিরোধ।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এমপি হুমাম কাদেরের নিন্দা : মাসুদুল হক চৌধুরী হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সর্বোচ্চ মহলের হস্তক্ষেপের কথা জানিয়েছেন স্থানীয় এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী। গতকাল রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাসের কথা সামনে আনেন।












