মেসির নতুন ইতিহাস

ক্লোসাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল, নকআউটে আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া প্রতিবেদক | মঙ্গলবার , ২৩ জুন, ২০২৬ at ৫:৩৮ পূর্বাহ্ণ

বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার জন্য একটি গোল দরকার ছিল মেসির। মেসির বিশ্বরেকর্ডের অপেক্ষায় ছিলেন ফুটবলপ্রেমীরা। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে সহজতম সুযোগ এসে গিয়েছিল ৯ মিনিটে। কিন্তু পেনাল্টি শট পেয়েও কাজে লাগাতে পারলেন না মেসি। প্রথম আধ ঘণ্টায় আরও দুবার নিশ্চিত সুযোগ পেয়েও হতাশ করলেন তিনি। সমর্থকদের কপালে হয়তো ভাঁজ পড়তে শুরু করেছিল। তবে, নতুন ইতিহাস গড়ার দুয়ারে দাঁড়িয়ে খুব বেশি সময় নিলেন না সময়ের সেরা তারকা। সেই মাহেন্দ্রক্ষণ এল ৩৮ মিনিটে। দারুণ এক গোলে গড়লেন রেকর্ড, দলকে দেখালেন পথ। অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে শেষ বত্রিশে জায়গা পাকা করল আর্জেন্টিনা। ডালাসে গতকাল সোমবার ‘জে’ গ্রুপের ম্যাচে ২০ গোলে জিতেছে স্কালোনির দল। এতে করে ২ খেলায় ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে উঠেছে তারা। আগামী ২৮ জুন জর্ডানের বিপক্ষে গ্রুপের শেষ খেলায় তারা অংশ নেবে।

প্রথম গোলে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলের নতুন রেকর্ড গড়েন মেসি। পরে দ্বিতীয় গোলও করেন তিনি। সেটি বিশ্বকাপে মেসির ১৮তম গোল। এ বারেই দু’ম্যাচে পাঁচটি! শেষ মুহূর্তে প্রথম ম্যাচের মত হ্যাটট্রিকও করতে পারতেন মেসি। বঙের মাথায় ফ্রিকিক পায় আর্জেন্টিনা। মেসির শট অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়।

এই ম্যাচে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসাকে (১৬ গোল) পেছনে ফেলে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে উঠে বসলেন মেসি। এবারের বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে ক্লোসার পাশে বসেছিলেন মেসি। গতকাল প্রথম গোলে ক্লোসাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আরেকটি কীর্তি গড়েন তিনি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে টানা ছয় ম্যাচে গোল করেন ৩৮ বছর বয়সী তারকা। চার বছর আগে কাতারে শিরোপা জয়ের আসরে শুরু হয় তার এই যাত্রা। ২০০৬এ প্রথম বার বিশ্বকাপ খেলতে নামেন মেসি। সে বারই প্রথম গোল করেন সার্বিয়া ও মন্টেনেগ্রোর বিরুদ্ধে। ১৮ বছর ৩৫৭ দিন বয়সে গোল করেছিলেন মেসি। তখন বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার তরুণতম গোলস্কোরার হন।

গতকাল মেসির জন্য সহজতম সুযোগ এসে গিয়েছিল ৯ মিনিটে। বঙের মধ্যে লাউতারো মার্তিনেজকে একসঙ্গে ট্যাকল করেন অস্ট্রিয়ার দুই ফুটবলার। ভারএর সাহায্য নিয়ে পেনাল্টি দেন রেফারি। পিছন থেকে ট্যাকল করাতেই সম্ভবত পেনাল্টি দেন তিনি। আর্জেন্টিনার অধিনায়কই পেনাল্টি মারতে এগিয়ে যান। গোটা স্টেডিয়াম তখন অপেক্ষায়। কিন্তু গোল করতে পারলেন না মেসি! ডান পোস্টে শট মারেন। কিন্তু শটে তেমন জোর ছিল না! আটকে দিলেন অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক আলেকজান্ডার শ্লেগার। মেসি গোলের সুযোগ নষ্ট করলেন ১৯ মিনিটেও। এ বার শ্লেগারকে প্রায় একা পেয়েও তার গায়ে মারেন! ততক্ষণে চাপ বাড়াতে শুরু করে দিয়েছিল অস্ট্রিয়াও। আক্রমণপ্রতি আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। যদিও আর্জেন্টিনার বঙে তেমন বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারেননি অস্ট্রিয়ার ফুটবলারেরা। দাপট অবশ্য আর্জেন্টিনারই বেশি ছিল। স্কালোনির দল নিজেদের মধ্যে অনেক বেশি পাস খেলছে। পরিকল্পনার ছাপ ছিল প্রতিটি আক্রমণে।

৩৮ মিনিটে প্রথম গোল করলেন মেসি। এ বারের বিশ্বকাপে চতুর্থ। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে ১৭তম গোল এলএম টেনের। প্রতি আক্রমণে আলমাডা বল নিয়ে ফাইনাল থার্ডে ঢুকে যান। মেসি বল পেয়ে দুর্দান্ত শটে গোল করলেন। ১০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।

পিছিয়ে পড়ার পর সমতা ফেরানোর লক্ষ্যে চাপ বাড়াতে শুরু করে অস্ট্রিয়া। আক্রমণপ্রতি আক্রমণে জমে ওঠে খেলা। দাপট বেশি ছিল আর্জেন্টিনারই। এই সময় ম্যাচের মেজাজ চড়তে শুরু করে। বাড়তে থাকে ফাউলের সংখ্যা। ছোট ছোট উত্তেজনা তৈরি হতে থাকে। কড়া হাতে পরিস্থিতি সামলান রেফারি। তবে প্রথমার্ধে আর গোল হয়নি।

দ্বিতীয়ার্ধে শুরু থেকেই ব্যবধান বাড়ানো চেষ্টা করে আর্জেন্টিনা। একের পর এক আক্রমণও তৈরি হয়। তবু গোল আসছিল না। যোগ করা সময়ে ডিবঙে অস্ট্রিয়ার রক্ষণভাগের লেজেগোবরে অবস্থার সুযোগে ব্যবধান বাড়ান মেসি। গোলটির উৎসও তিনি। তার পাস ধরে হুলিয়ান আলভারেসের নেওয়া শট ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক, ফিরতি বল ক্লিয়ার করার সুযোগ পেয়ে পারেনি কেউ, ছুটে এসে মেসির নেওয়া প্রথম শট প্রতিহত হয়, তখনও ছিল ক্লিয়ার করার সুযোগ। তাদের ব্যর্থতায় ফিরতি বল ধরে কোনাকুনি শটে আসরে দলের ও নিজের পঞ্চম গোলটি করেন মহাতারকা।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ১০ হাজারের মধ্যে আবাসন সুবিধা পায় মাত্র দুইশজন
পরবর্তী নিবন্ধচীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী