দেশে হামের উপসর্গ ও হাম আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে অনেক শিশু। এরমধ্যে নতুন উদ্বেগ হিসাবে দেখা দিয়েছে ডেঙ্গু্। কারণ গতকাল চট্টগ্রাম নগরীসহ আশপাশের এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া রয়েছে ভ্যাপসা গরমও। সাধারণত ভ্যাপসা গরমের সাথে ঝিরি ঝিরি কিংবা থেমে থেমে বৃষ্টি এডিস মশার বংশবিস্তারে সহায়ক ভূমিকা রাখে। চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। হাতেগোনা লোক ডেঙ্গু আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে ডেঙ্গু মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। এরমধ্যে ১ জন পুরুষ ও ৩ জন নারী। এদের মধ্যে দুইজন বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল, একজন সিএমএইচ হাসপাতালে এবং একজন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এছাড়া চলতি বছর গতকাল পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ১৩৫ জন। এরমধ্যে নগরীতে ৮০ জন এবং উপজেলায় ৫৫ জন। মারা গেছেন ১ জন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে না। অনেক রোগী ডেঙ্গু পরীক্ষার (এনএসওয়ান) রিপোর্ট পজিটিভ হওয়ার সাথে সাথে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে যাচ্ছেন। এটির আসলে কোনো দরকার নেই। ডেঙ্গুর প্ল্যাটিলেট কাউন্ট ১০ হাজারের নিচে নেমে গেলে তখন কেবল রোগীর শরীরে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হতে পারে। তখন জরুরি চিকিৎসা কিংবা নিবিড় পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন পড়ে। অন্যদিকে রক্তের প্ল্যাটিলেট কমা শুরু হয় জ্বর কমে যাওয়ার পর পর। তখন শারীরিক কিছু অসুবিধা দেখা দেয়। ওই সময় হাসপাতালে ভর্তি হতে পারে। সাধারণ মানুষের মধ্যে প্ল্যাটিলেট নিয়ে আতঙ্ক লক্ষ্য করা যায়, আসলে প্ল্যাটিলেট যখন বাড়া শুরু হয় তখন দ্রুতই বাড়ে। কাজেই ডেঙ্গু জ্বর হলেই আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এডিস মশার বংশ বিস্তার থামানো গেলে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এমনিতেই কমে যাবে। বিশেষ করে আমাদের চারপাশে যেসব জায়গায় এডিস মশা জন্মায় সেসব জায়গায় যাতে এডিস মশা জন্মাতে না পারে, সে ব্যাপারে সবাইকে সচেতন হতে হবে। পরিষ্কার ও বদ্ধ পানি এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র। তাই বসতবাড়ির আশপাশে ডাবের খোসা, ফুলের টব, ছাদবাগান ও ফ্রিজের নিচের ট্রেতে তিন দিনের বেশি পানি যাতে জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বাসাবাড়ি, ছাদ আঙিনা নিজ নিজ উদ্যোগে পরিষ্কার রাখতে হবে। এটি সবার দায়িত্ব।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী দৈনিক আজাদীকে বলেন, এখন ডেঙ্গুতে হাতেগোনা দুই একজন করে আক্রান্ত হচ্ছেন। ডেঙ্গু মোকাবেলায় যেহেতু আমাদের অভিজ্ঞতা আছে, তাই এই নিয়ে আমাদের এই আতঙ্কের কারণ নেই। মশক নিধনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে। পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতন হতে হবে। তাহলে ডেঙ্গু মোকাবেলা করাটা সহজ হবে।
উল্লেখ্য, গত বছর ২০২৫ সালে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৮৬৪ জন এবং মারা যান ২৭ জন। এছাড়া ২০২৪ সালে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৩২৩ জন এবং মারা যান ৪৫ জন। ২০২৩ সালে আক্রান্ত হয়েছিল ১৪ হাজার ৮৭ জন। এরমধ্যে মারা যায় ১০৭ জন। এছাড়া ২০২২ সালে মোট আক্রান্ত ৫ হাজার ৪৪৫ জনের মধ্যে মারা যান ৪১ জন এবং ২০২১ সালে আক্রান্ত হয় ২২১ জন এবং মারা যায় ৫ জন।














