আসন্ন সাফ উইমেন্স চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ নারী জাতীয় ফুটবল দল। শিরোপা জয়ের মিশনে ঘাম ঝরাচ্ছেন দলের ফুটবলাররা। গতকাল ১৪ মে সেখানে পঞ্চম দিনের অনুশীলন সম্পন্ন করেছেন খেলোয়াড়রা। থাইল্যান্ডের গরমে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি উন্নত সুযোগ–সুবিধার সর্বোচ্চ ব্যবহার করে সাফের শিরোপা বাংলাদেশে নিয়ে আসাই এখন দলের প্রধান লক্ষ্য। ব্যাংককের অনুশীলন ক্যাম্পে গতকাল ফিটনেস কোচ ক্যামেরন লর্ডের অধীনে ওয়ার্ম–আপ এবং ফিটনেস ড্রিল দিয়ে দিনের সেশন শুরু হয়। এরপর পাসিং ড্রিল এবং পজেশন–ভিত্তিক গেমসের অনুশীলন করেন ফুটবলাররা। অনুশীলনের একপর্যায়ে স্কোয়াডকে তিনটি গ্রুপে ভাগ করে অন–বল এবং অফ–বল নিয়ে কাজ করানো হয়। খেলোয়াড়দের মাঠে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং খেলার ট্রানজিশন মুহূর্তগুলো নিয়ে বিশেষভাবে কাজ করেছে কোচিং স্টাফরা। সেশনের শেষে ফিনিশিং ও সেট–পিস নিয়েও কড়া অনুশীলন করেন ফুটবলাররা। দলের ফিজিও জানিয়েছেন এখন পর্যন্ত স্কোয়াডের কোনো খেলোয়াড় ইনজুরিতে পড়েননি। মাঠের অনুশীলনের পাশাপাশি টিম হোটেলে জিম ও পুল রিকভারি সেশনও সম্পন্ন করেছেন মেয়েরা। দলের এই প্রস্তুতি ও সার্বিক অবস্থা নিয়ে কথা বলেছেন দলের অন্যতম খেলোয়াড় আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী। প্রস্তুতি নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামে ক্যাম্প দিয়ে আমাদের এই যাত্রা শুরু হয়েছিল। আমি এক সপ্তাহ ক্যাম্প করেছিলাম। এখন আমরা থাইল্যান্ডে আছি। এখানকার আবহাওয়া বেশ গরম হলেও আমরা মানিয়ে নিচ্ছি এবং দিনের কাজ দিনেই শেষ করছি। থাইল্যান্ডের সুযোগ–সুবিধাগুলো দারুণ; পিচ, ড্রেসিংরুম, আইস বাথ সবকিছুই চমৎকার। এগুলো আমাদের অনেক সাহায্য করবে। আবহাওয়া গরম হলেও আমার মনে হয় ভারতে (আসন্ন টুর্নামেন্টে) আমরা আরও ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পারব।’ নিজের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নিয়েও বেশ আত্মবিশ্বাসী আনিকা। সমপ্রতি গোল পাওয়ায় তার আত্মবিশ্বাসও বেড়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘শুরুটা ভালো ছিল, গোল করতে পেরে আনন্দিত। এখনও অনেক পথ বাকি, তবে আমি এখন আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী এবং স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছি। আশা করি ভবিষ্যতে আরও গোল পাব এবং ভালো ফলাফল আসবে।’ সব মিলিয়ে দলের প্রত্যাশা এখন আকাশছোঁয়া। সাফের শিরোপা বাংলাদেশে নিয়ে আসতে নিজেদের সেরাটা দিতে প্রস্তুত আনিকারা। আনিকার ভাষায়, ‘আমাদের প্রত্যাশা অনেক বেশি। আমরা জিততে চাই, আর কাপটি বাংলাদেশে নিয়ে আসার জন্য আমরা আমাদের সেরাটা দেব।’ নিজেদের প্রস্তুতি আরও শানিয়ে নিতে আজও একই ভেন্যুতে এবং নির্ধারিত সময়ে অনুশীলন চালিয়ে যাবে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল।













