সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের জামিন আদেশ যাতে আদালত বাতিল করে, সেজন্য দুবাইয়ে আইনজীবী নিয়োগের কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, জামিন আদেশের সত্যায়িত কপি সংগ্রহের চেষ্টা চলছে এবং ওই আদেশ বাতিলের জন্য বাংলাদেশ সরকার দুবাইয়ে একটি আইনজীবী প্রতিষ্ঠান (ল ফার্ম) নিয়োগ করেছে। গতকাল রোববার বিকালে রাজশাহী পুলিশ লাইন্সে রাজশাহী রেঞ্জ ও রাজশাহী মহানগর পুলিশের কর্মকর্তা ও সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশের অনুরোধেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ। সেখানে তিনি শর্তসাপেক্ষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন এবং তিনি ইউরোপের কোনো একটি দেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে খবর দিয়েছে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম। খবর বিডিনিউজের।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাবেক পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদ দুবাই আদালত থেকে শর্তসাপেক্ষে জামিন পেয়েছেন এটি আমরা শুনেছি। এ বিষয়ে দুবাইয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা জামিন আদেশের সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহের চেষ্টা করছি।তার জামিন আদেশ বাতিলের জন্য বাংলাদেশ সরকার দুবাইয়ে একটি ল ফার্ম নিয়োগ করেছে। আমরা আশা করছি, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে পারব। বাংলাদেশ থেকে নিয়োগ করা ল ফার্ম এ বিষয়ে কাজ করছে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৭ জুলাই সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি আদালত বেনজীরের জামিন আবেদন মঞ্জুর করে। সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে ৩০ জুলাই কারামুক্ত হন তিনি। জামিনের ক্ষেত্রে আদালত শর্ত দিয়েছে, বেনজীরের পাসপোর্ট আদালতের হেফাজতে থাকবে এবং অনুমতি ছাড়া তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ করতে পারবেন না।
আওয়ামী লীগ আমলের আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা বেনজীরের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থপাচারসহ একাধিক অভিযোগে তদন্ত করছে দুদক। সেই তদন্তের ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিস জারি করা হয়। সেই নোটিসের ভিত্তিতে দুবাই পুলিশ বেনজীরকে গ্রেপ্তার করে। সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ ১২ জুন ই–মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে বিষয়টি জানায়। এরপর ১৪ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে বলেন, গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাঠাতে হবে। এনসিবি আবুধাবির সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত বেনজীরকে বাংলাদেশে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেবে সরকার। সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করে প্রত্যর্পণের আবেদন পাঠানো হয় সংযুক্ত আরব আমিরাতে। এর এক মাস পর বেনজীরকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সম্মতির পাশাপাশি আরো কিছু তথ্য ও ব্যাখ্যা চেয়ে বাংলাদেশকে চিঠি দেয় দুবাই পুলিশ। এই নথি চালাচালির মধ্যেই বেনজীরের জামিনে মুক্তি পাওয়ার খবর এলো, যা তার প্রত্যর্পণের বিষয়টি অনিশ্চয়তায় ফেলে দিল। পাসপোর্টে জালিয়াতি এবং জ্ঞাত আয়বর্হিভূত সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন অভিযোগে বেনজীরের বিরুদ্ধে ছয়টি দুর্নীতির মামলা করেছে দুদক। এর মধ্যে একটি মামলার বিচার চলছে। বাকি মামলাগুলো তদন্তাধীন।












