বিয়ের পিঁড়িতে বসা হলো না রাঙ্গুনিয়ার অপু দাশের, সড়কে দুর্ঘটনায় গেলো প্রাণ

| শনিবার , ২৯ আগস্ট, ২০২৬ at ১:১৮ অপরাহ্ণ

কাপ্তাই সড়কে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অপু দাশ (৩০) নামের রাঙ্গুনিয়ার এক যুবক। রাউজানের বাগোয়ান এলাকার গঙ্গা মন্দিরে পাত্রী দেখার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই বাড়ি ফেরার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত অপু দাশ রাঙ্গুনিয়া উপজেলার স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নের উত্তর সাবেক রাঙ্গুনিয়া গ্রামের রাস বিহারি ধামের পাশেই বাঘার বাড়ির প্রয়াত বাদল দাশের ছেলে। তিনি রাউজানের পাহাড়তলী চৌমুহনী এলাকার দি বিসিসিইউএল জেনারেল হাসপাতালের মার্কেটিং অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছোট ছিলেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকালে রাউজানের বাগোয়ান এলাকার গঙ্গা মন্দিরে অপু দাশকে পাত্রী দেখানো হয় এবং বিয়ের বিষয়ে পরিবারের মধ্যে প্রাথমিক কথাবার্তাও সম্পন্ন হয়। এরপর হাসপাতালে যান তিনি এবং সেখান থেকে দায়িত্ব পালন শেষে রাত আটটার দিকে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। পথিমধ্যে পাহাড়তলী ইউনিয়নের ইমাম গাজ্জালী ডিগ্রি কলেজসংলগ্ন কাতালপীর শাহ দরগাহের সামনে পৌঁছালে দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কার পেছন থেকে তার মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয় বলে স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে। এতে তিনি ছিটকে সড়কে পড়ে গিয়ে মাথায় মারাত্মক আঘাত পান এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। খবর পেয়ে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে চট্টগ্রামের এভারকেয়ার হাসপাতালে নেন। অবস্থার অবনতি হলে পরবর্তীতে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত এগারোটার দিকে তার মৃত্যু হয়।

নিহতের প্রতিবেশী শিবু চক্রবর্তী জানান, “অপুর বিয়ের জন্য মেয়ে ঠিক করা হয়েছিল এবং শুক্রবার বিকালে আনুষ্ঠানিকভাবে পাত্রীও দেখানো হয়। পরিবারে বিয়ের প্রস্তুতি ও আনন্দের জোয়ার বইছিল। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পার না হতেই এই সড়ক দুর্ঘটনা সব শেষ করে দিল। বিয়ের পিঁড়িতে বসা আর হলো না অপুর।”

দি বিসিসিইউএল জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক (মার্কেটিং) এপেক্সিয়ান মৃনাল কান্তি বড়ুয়া বলেন, অপু অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও পরিশ্রমী একজন কর্মকর্তা ছিলেন। তার এমন আকস্মিক প্রস্থান পুরো হাসপাতাল পরিবারকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।

এদিকে তার এমন আকস্মিক মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পুরো এলাকা। বিয়ের আনন্দের ঠিক পরপরই এই ট্র্যাজেডিতে স্বজন, সহকর্মী ও এলাকাবজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, নিহত অপুর মরদেহ চমেক হাসপাতালে রয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি কোনো অজ্ঞাত যানবাহনের ধাক্কায় এটি ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধরোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাচ্ছে মালয়েশিয়া