যৌন হয়রানির অভিযোগ আজীবন নিষিদ্ধ জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার ও নারী দলের সাবেক নির্বাচক এবং ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলামের ফেরার পথ খুলল না। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যে দুটি রিট আবেদন তিনি করেছিলেন, হাই কোর্ট সেগুলো খারিজ করে দিয়েছে। বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর নেতৃত্বাধীন পৃথক বেঞ্চ এ আদেশ দিয়েছে বলে বিসিবির আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহিন এম রহমান জানিয়েছেন। বুধবার তিনি বলেন, মঞ্জুরুল ইসলামের করা দুটি রিট আবেদন খারিজ হয়েছে। এর মধ্যে একটি গত ২১ মে এবং অপরটি গত ১৯ জুলাই খারিজ করে দিয়েছে হাই কোর্ট। মাহিন এম রহমান বলেন, জাহানারা আলমের অভিযোগ তদন্তে বিসিবি একটি কমিটি গঠন করে। তদন্তে মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। “জাহানারাকে ইনঅ্যাপ্রোপ্রিয়েট টাচিং এবং তার সঙ্গে হাই–হ্যান্ডেড রুড বিহেভিয়ার করার প্রমাণ পাওয়া যায়। এসব আচরণ যৌন নিপীড়নের সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে।” জাহানারা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেও সেসব অভিযোগের সত্যতা তদন্ত কমিটি পায়নি বলে বিসিবির আইনজীবী জানান। ক্রিকেটার জাহানারা আলমের আনা যৌন হয়রানির অভিযোগ তদন্তে ২০২৫ সালের নভেম্বরে বিসিবি এই কমিটি গঠন করে। কমিটির প্রধান ছিলেন আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি তারিক উল হাকিম। দীর্ঘ তদন্ত প্রক্রিয়া শেষে ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি কমিটি তাদের প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং ২ ফেব্রুয়ারি বিসিবি সভাপতির কাছে জমা দেয়। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ২২ ফেব্রুয়ারি বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের সভায় মঞ্জুরুল ইসলামকে বোর্ডের আওতাধীন সব ধরনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কর্মসংস্থান এবং ক্রিকেট–সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রিট আবেদন দুটি খারিজের পর মঞ্জুরুল ইসলাম আপিল বিভাগে যাননি জানিয়ে বিসিবির আইনজীবী বলেন, যৌন হয়রানির ঘটনায় আলাদাভাবে ফৌজদারি মামলা করার সুযোগ রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীকেই মামলাটি করতে হবে, প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিসিবি তা করতে পারবে না। তিনি বলেন, ‘মঞ্জুরুলকে আজীবন নিষিদ্ধ করার সময় জাহানারা আলমকে ফৌজদারি মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার কথাও জানিয়েছিল বিসিবি। তবে আমার জানা মতে, জাহানারা এখনো ফৌজদারি মামলা করেননি।’












