শিশু ধর্ষণ ও যৌননিপীড়নের ঘটনা প্রসঙ্গে প্রখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী বিজিএমইএ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ওবায়দুল করিম দৈনিক আজাদীকে বলেন, এসব ঘটনার কারণ অতি অবশ্যই সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক। যে সমাজে শিশুর সামাজিকীকরণ যথার্থ নয়, সেখানে সমাজ নিন্দিত ঘটনা ঘটবার সম্ভাবনা বেশি।
তিনি বলেন, সমপ্রতি ঢাকার পল্লবীতে ৭ বছরের শিশু রামিসাকে প্রতিবেশী সোহেল রানা ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করার ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। এ ধরনের ঘটনার মূল কারণসমূহের মধ্যে রয়েছে মাদকের সহজলভ্যতা ও নেশাগ্রস্ততা (যেমন সোহেল রানা সমপ্রতি চাকরি হারিয়েছিলেন নেশার কারণে), আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দুর্বল তদন্ত ও দ্রুত বিচারের অভাব যা অপরাধীদের উৎসাহিত করে, সমাজে চেনা–পরিচিত ব্যক্তি (প্রতিবেশী, আত্মীয়) দ্বারা নির্যাতনের প্রবণতা, শিশু সুরক্ষায় অভিভাবকদের সচেতনতার ঘাটতি এবং পর্নোগ্রাফি ও নৈতিক অবক্ষয়ের প্রভাব। ফলে শিশুরা ঘরে–বাইরে নিরাপদ নয়। এই ধরণের ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিকার হিসেবে ড. ওবায়দুল করিম দ্রুততম সময়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি (যেমন ফাঁসি) নিশ্চিত করা, শিশু ধর্ষণ মামলায় বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, মাদক নিয়ন্ত্রণ জোরদার, স্কুল–পাড়ায় সচেতনতা ক্যাম্পেইন, অভিভাবকদের সতর্কতা বৃদ্ধি এবং সমাজে নৈতিক শিক্ষা ও লিঙ্গসমতার প্রচার জরুরি বলে মত প্রকাশ করেন। এই ধরণের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সেজন্য সরকার, সমাজ ও পরিবারকে একযোগে কাজ করতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।











